রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে কিংবা হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও হোটেলকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাজমিনকে নিয়ে কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে ওঠেন রাজু। হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, বয়স ১৮ বছর লেখা হয়। সেখানে তাকে রাজুর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। রাজুর পরিচয় লেখা হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।
হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। হোটেলের রেজিস্টারে রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লেখা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একসঙ্গে হোটেল থেকে বের হতে দেখা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাজমিন কক্সবাজারে আসে। পরে কুমিল্লায় ফেরার জন্য আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসের টিকিটও কেটে দেন তিনি। কুমিল্লায় পৌঁছে বাস থেকে নামার পর বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। চালক সুমন মিয়া তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি। গত বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তথ্য খুঁজুন
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলীমের করা হত্যা মামলায় অটোরিকশাচালক সুমনকে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের আগে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিল তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। তবে, অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল। রাতের দিকে তার লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়, পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে আসে বলে দাবি পুলিশের।তথ্য খুঁজুন
রাজুকে আটকের পর তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলে ওঠা এবং কুমিল্লায় ফেরার যাত্রাপথ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রাজুর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ।