দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বইছে আনন্দের আমেজ। আজ থেকে চণ্ডীপাঠ, আগমনী সুর ও ঢাকের বাদ্যে উপজেলার ৮টি মণ্ডপে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। সম্প্রীতি ও উৎসবের এই আবহ বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরদার করেছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পূজা উৎযাপন কমিটিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভক্তদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তায় নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গঠন করা হয়েছে পৃথক পরিচালনা কমিটি, যাতে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে দর্শন ও অঞ্জলি প্রদান করতে পারেন।
উপজেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার জানান, "শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার ৮টি পূজা মণ্ডপে মোতায়েন রয়েছে ৫৪ জন পুলিশ সদস্য।" একইসঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন আনসার ও ভিডিপির মোট ৫৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য, যার মধ্যে রয়েছেন ৩৮ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী সদস্য। এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট) মোঃ মোস্তাকিমুল হক বলেন, "আনসার ও ভিডিপি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী।
মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।" কেবল পুলিশ বা আনসারই নয়, সার্বিক পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তার বিশেষ আমেজ বজায় রাখতে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। উপজেলা জুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। সাধারণ ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যেন কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই আনন্দঘণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা হয়েছে পুরো দীঘিনালা।