তথ্য কমিশন কোনো সরকার বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, বরং জনগণের জন্য কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নে কমিশনের দরজা বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’
আজ দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, নারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলেও যখন কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন জেন্ডার নয়, বরং দায়িত্বটাই সবচেয়ে বড়। সমাজে সব জেন্ডার যেন সমানভাবে অগ্রাধিকার পায়, সেটিই মূল কথা।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বিগত প্রায় দুই বছর তথ্য কমিশন নিষ্ক্রিয় ছিল এবং দীর্ঘ ১৭ বছরেও কমিশন তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারেনি বা করতে দেওয়া হয়নি।
অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে এই কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে, যা জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে নিশ্চিত করবে।
তথ্য কমিশন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণার ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে ড. নাহরিন ইসলাম খান জানান, মানবাধিকার ও তথ্য কমিশন যেকোনো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর না থাকায়, মানুষ এর কার্যক্রম সম্পর্কে সেভাবে জানে না। তাই মানুষের দোরগোড়ায় তথ্য পৌঁছে দেওয়া ও তথ্য কমিশনে জনগণের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করাই হবে আমাদের প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য কমিশনের নবনিযুক্ত সদস্য এস. এ. এম মাহফুজুর রহমান বলেন, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। গত ১৭ বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারেনি। তথ্যের অধিকার কেবল গণমাধ্যমের নয়, এটি জনগণের অধিকার।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কাজ করবে।
জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির প্রত্যাশা পূরণে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
এর আগে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের সাথে নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনের দুই সদস্য সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।