বৈদেশিক শ্রমবাজারে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা পূরণ ও শ্রমশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাগেরহাটের চিতলমারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের জন্য পরিচালিত "ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স" দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদপত্র বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ অক্টোবর ২০২৬ চিতলমারী টিটিসির সভা কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, রাইজ (RAISE) প্রকল্প এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), চিতলমারী, বাগেরহাট যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও আয়োজনে ছিল।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সরকারের ভূমিকা
বর্তমানে তারেক রহমান সরকার আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে শতভাগ বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ভাবমূর্তির আলোকেই অত্র কেন্দ্রে বিদেশ ফেরত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পূর্ব অভিজ্ঞতাহীনতার কারণে বিদেশে গিয়ে কী ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়, ভাষাগত দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে কীভাবে শ্রমের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়—তা সম্যক্ উপলব্ধি করেই প্রবাসী কর্মীরা পুনরায় বিদেশ গমনের পূর্বে দক্ষতা অর্জনে এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে সফলকাম শিক্ষানবিসদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষতাসনদ তুলে দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও সন্তুষ্টি
বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলা থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থী প্রবাসীরা অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, "বর্তমান সরকার দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি। পূর্বে কাজের দক্ষতা না থাকায় আমরা প্রবাসে সঠিক পারিশ্রমিক পাইনি। তবে এই প্রশিক্ষণের পর আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পেরেছি।" তারা এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের জন্য তারেক রহমান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল বলে অভিমত প্রকাশ করেন।
নিরাপদ অভিবাসন ও সরকারের নানা পদক্ষপ
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, বর্তমান সরকার শুধু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ক্ষান্ত হয়নি; বরং স্বল্প ব্যয়ে বোয়েসেল (BOESL)-এর মাধ্যমে শতভাগ সরকারিভাবে বিদেশ গমানের পথ সুগম করেছে। প্রবাসে কোন খাতে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে, সে বিষয়ে নিয়মিত স্বচ্ছতার সাথে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মানবসম্পদ প্রেরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রবাসীদের দালাল বা প্রতারকের খপ্পর থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান জোরদার করার কাজও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।
টিটিসি কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও পরবর্তী পরিকল্পনা
চিতলমারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিবেশ ও প্রশিক্ষকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আতিকুজ্জামান এবং প্রশিক্ষক মো. মামুন হাওলাদারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভালোবাসাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতার ফলে সবাই নিবিড়ভাবে কাজ শিখতে সক্ষম হয়েছেন।
অধ্যক্ষ মো. আতিকুজ্জামান জানান, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে শতভাগ দক্ষ করে গড়ে তোলা। একজন কর্মী দক্ষ হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করলে পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে। এমনকি তিনি যদি বিদেশে নাও যান, তবে নিজ দেশেই এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আত্মকর্মসংস্থান বা ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন।"
তিনি আরও জানান, চিতলমারী টিটিসিতে আগামী কোর্সটি হবে "ড্রাইভিং" বিষয়ের ওপর। তিনি সদ্য সনদপ্রাপ্তদের প্রয়োজনে এই ড্রাইভিং কোর্সেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, রাইজ (RAISE) প্রকল্প ও টিটিসির যৌথ পরিচালনায় পরবর্তী ড্রাইভিং কোর্সটিতেও অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সচেতনতামূলক পরামর্শ
সংবাদ শেষের এক বার্তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রবাসীরা জানান, বিদেশ গমনেচ্ছু বা বিদেশ ফেরত সবাইকে অবশ্যই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কোনো না কোনো কাজের ওপর দক্ষতা অর্জন করে তবেই প্রবাসে পাড়ি জমানো উচিত। এটি কাজের সহজলভ্যতা ও শ্রমের সঠিক পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। একইসঙ্গে দালালের খপ্পরে না পড়ে সরকারিভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশ গমনের জন্য সবাইকে বিশেষ পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।