চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের ভেতরের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ। অনেকটা কারারক্ষীদের সহায়তায় কারাগারের ভেতরেই প্রবেশ করে ইয়াবার চালান। আসামি প্রবেশ করানোর সময় শতভাগ নিরাপত্তা বিধান করে এমনকি আসামিদের পরনের কাপড় খুলে কয়েক দফা চেক করার পরেও কারাগারের ভেতরে চলে যাই বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য।
ইয়াবা গাঁজা সহ যত ধরনের মাদক রয়েছে তা নিরাপদেই পৌঁছে যায় কারাগারের ভেতরে। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে মাদকের এসব চালান কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে এর উত্তর মিলে যাবে খুব সহজেই আসামি প্রবেশের সাথে সাথে মাদকের এসব চালান আবারও আসামীর হাতে পৌঁছে যায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে। কারাগারে নিয়োজিত কারারক্ষীদের সহায়তায় মাদকের চালান ভিতরে প্রবেশ করে বলে আশা আসামিরা জানান।
যদি কারাগারের কারারক্ষীদের সহায়তায় এসব প্রবেশ না করে তাহলে অন্য কোন উপায়ে কারাগারের ভেতর মাদকের চালান পৌঁছানো সম্ভব নয় তা খবর নিয়ে জানা গেছে। প্রতিদিন শতশত আসামি মাদকদ্রব্যের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আসলেও তাদের নেই কোন অনুশোচনা কারণ তারা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কারাগারের ভেতরে বসেই। এতে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না অনেকেই।
একজন মিডিয়াকর্মী একটি মামলায় কারাগারে থাকার সুবাদে এসব তথ্য পেয়েছে বলে জানা যায়। তথ্য সংগ্রহে আরো জানা যায় মাদকের পাশাপাশি কারাগারের ভেতরে এখনো নগদ টাকার বাণিজ্য হয়। যদিও নিয়ম রয়েছে কারাগারের ভেতরে নগদ টাকা লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। কিন্তু কারাগারে নিয়োজিত রক্ষীদের সহায়তায় এখনো লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্য হয় নগদ টাকার বিনিময়ে।
অনেক যাবজ্জীবন সাজা পাপ তো কয়েদিরা কারাগারের ভেতর থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে নগদ টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে কারা রক্ষীদের মাধ্যমে।
বার্তা বিচিত্রার অনুসন্ধানে জানা যায় আসামিদের যে খাবার পরিবেশন করা হয় তাতেও রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম। বাজারের নিম্নমানের সবজি সহ অন্যান্য খাবার সংগ্রহ করে তা আসামিদের পরিবেশন করা হয়। যদিও কারাগারে আসামিদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে অনেক বেশি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামিনে আসা কয়েকজন আসামি বার্তা বিচিত্রাকে বলেন কারাগারের ভিতরে যে সমস্ত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। দুর্নীতির শিকড় রয়েছে কারাগারের ভেতরে। এত নিরাপত্তার ভেতরে কারাগারে কিভাবে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা সেবন এবং বহন করা হচ্ছে তা খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
খাবার নিম্নমানের হওয়ায় আসামিরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে ক্রমান্বয়ে। ভেতরে মাদক সাম্রাজ্যের অনেক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়ে থাকলেও তারা মাদক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে খুভয় ওপেন ভাবে। এতে তাদেরকে শতভাগসহযোগিতা করে যাচ্ছে কারাগারে নিয়োজিত রক্ষীরা।
অপরদিকে অনেক নিরীহ আসামী ফেঁসে যায় বিনা দোষে। কারাগারের ভেতরে দাপট চলে অপরাধীদের তাদের কথা মতো সাধারণ আসামিরা চলাফেরা না করলে নিরীহ আসামিদের উপর নেমে আসে নির্যাতন। এতে বিচার নিয়ে কারাগারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার ও সাহস পাই না নিরীহ আসামীরা। চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যের খবর নিয়ে আগামীতে আরও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বার্তা বিচিত্রা।