মোঃ নাঈম মিয়া,ভৈরব(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার গ্রামাঞ্চলের দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। এ যেন হলুদের রাজ্য। সরিষা ক্ষেতের এ হলুদ রাজ্যেই লুকিয়ে আছে কৃষকের স্বপ্ন। সরিষা ক্ষেতে পৌষের কনকনে বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।
ফুল ও ফলে সয়লাব হওয়া সরিষার ক্ষেতে ছবি, সেলফি ও ভিডিও ধারণ করছে প্রকৃতিপ্রেমীরা। আশানুরূপ ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে। গত অর্থবছরে চাষ হয়েছিল দুই হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। চলতি বছরে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫০৫ হেক্টর।সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী তিন বছরের মধ্যে ৪০ শতাংশ ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে আনবে। সেই লক্ষ্যে সারাদেশের মতো ভৈরবেও কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কম বেশী সব এলাকায় সরিষা চাষ হয়েছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষের দিকে এ উপজেলার কৃষকরা ঝুকে পড়েছেন।
তাছাড়া ভোজ্যতেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাজারে সরিষার দাম ভাল। বর্তমান বাজারে ৪ হাজার টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হচ্ছে। সরিষা কাটা মাড়াই শুরু হলে সরিষার বাজার দর একটু কমে আসতে পারে।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, বর্ষার পর কৃষকরা বোরো আবাদের আগে মধ্যবর্তী একটি লাভজনক ফসল হিসেবে সরিষার চাষ করা হয়। সরিষা চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ নানাভাবে সহযোগিতা করছে। দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষকদের বীজ-সার প্রণোদনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাড়তি ফসল হিসাবে সরিষা চাষ প্রতি বছরই বাড়ছে এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।