দুর্নীতিবাজ এক লম্পটের দৌড়ে পলায়ন

Date: 2023-01-16
news-banner



বিশেষ প্রতিনিধি: 

পুরান ঢাকার লালবাগে এমন একজন মৃত পিতার সন্ধান পাওয়া গেছে, যিনি জীবদ্দশায় ব্যাংকে জমা করার জন্য টাকা নিয়ে যেতেন বাজারের ব্যাগ ভর্তি করে। 

ঐ সময়ে বাজারে ১ হাজার টাকার নোটের প্রচলন ছিল না। তাঁর কাছে আসা বিভিন্ন মূল্যমানের টাকাগুলোকে প্রথমে তিনি সময় নিয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে ৫ শত টাকার নোটে পরিণত করতেন। এরপরও টাকার পরিমান এমন দাঁড়াতো যে, বাজারের ব্যাগে ভরে ব্যাংকে নিয়ে যেতে হতো। ভবিষ্যতের জন্য তিনি কিছুদিন পরপর এভাবেই ব্যাংকে টাকা জমা করতেন। বেশ ক’টি ব্যাংকে তার লেন-দেন ছিল। এই লেন-দেন বলতে টাকা জমা করা। কখনো কখনো তিনি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতেন, তবে তা আবার সেই ব্যাংকে অথবা সুবিধামত অন্য কোনো ব্যাংকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিক্সড ডিপোজিড করে রাখতেন। এভাবে তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে নিরবে-নিভৃতে টাকা জমানোর এই কাজ করে গেছেন। যার প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বার্তা বিচিত্রার হাতে ইতেমধ্যে যা এসে পৌঁছেছে, তা দেখলে যে কেউ ভিমড়ি খেতে বাধ্য। এ প্রসংঙ্গে ওয়ারিশদের উদ্দেশ্য করে একটি ব্যাংক ম্যানেজারের উল্লেখ করার মত উক্তি হচ্ছে “আপনারা ভালোভাবে খোঁজ লাগান, টাকার খনি পেয়ে যেতে পারেন।” 

এতক্ষণে পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক যে, ঐ পিতা এতো টাকা পেতেন কোথায়! উত্তর অবশ্যই আছে, তবে পাঠকদের জ্ঞাতার্থে এক্ষণে জানিয়ে রাখি যে, তাঁর ওই টাকা সম্পূর্ণই বৈধ বা হালাল টাকা ছিল। সে প্রসংঙ্গে যাবার আগে পাঠকদের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ও অকল্পনীয় এক ন্যক্কারজনক ঘটনা তুলে ধরছি। এতগুলো একাউন্ট নম্বর এবং সুদীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকে এতো এতো টাকা জমা করার পরেও ঐ পিতার মৃত্যুর পর খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, একটিমাত্র ব্যাংকে মাত্র ৪৯৫৮.৭৫ (চার হাজার নয় শত আটান্ন দশমিক পঁচাত্তর) টাকা জমা পড়ে আছে তাঁর। বাকি একাউন্টগুলো শূণ্য। এ অবস্থায় পিতার বড় ছেলের পক্ষ হতে ঘোষণা আসে, বাবা তার কাছে তিন লাখ টকা রেখে গেছেন।

 ছোট দুই ভাইয়ের মাধ্যমে অন্যান্য ভাইদের মাঝে (সব ভাইকে নিয়ে আলোচনা বৈঠক ব্যতীত) সেই টাকা বন্টন করে ঝামেলামুক্ত হবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। অতঃপর দায়মুক্ত হতে না পেরে তিনি ঘোষণা দেন যে, “তোমরা আমার ভাই না, আমার কোনো ভাই নাই। আর আমি কারো সাথে বসতেও রাজি নই।” এরপর থেকে মৃত পিতার ঐ বড় ছেলে তার ছোট ভাইদের এড়িয়ে চলতে থাকেন। এক পর্যায়ে পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে কৌশলগত সমঝোতার মাধ্যমে অন্যান্য ছোট ভাইদের সাথে একটা ভারসাম্যহীন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলেও পিতার দ্বিতীয় ওয়ারিশ পিঠাপিঠি এক ভাইকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে সেই বড়ভাই। তাকে প্রতিরোধে লিপ্ত হয় সে। 

এ প্রসংঙ্গে অনুসন্ধানে জানা যায় যে, বড় ভাইয়ের চরম নিকৃষ্ট লাম্পট্যের ঘটনার সাক্ষী তার এই ছোট ভাই (দ্বিতীয় ওয়ারিশ)। এবং বাবার বিশাল অর্থ-ভান্ডার হাতিয়ে নেয়ার প্রমানস্বরূপ যৌক্তিক যাবতীয় তথ্য-উপাত্তও রয়েছে তারই কাছে। সে জানায়, “এ সমস্ত কারনে বড় ভাই ও তার ছেলের পক্ষ থেকে জীবন নাশের হুমকি রয়েছে তার উপর। ইতোমধ্যে তারা সে চেষ্টাও চালিয়েছে। তবে উপরওয়ালার বিশেষ কৃপায় তারা তা করতে সফল হয়নি। কিন্তু তাদের পিতা-পুত্র তথা পুরো পরিবারটির এই চক্রান্ত অব্যহত রয়েছে।” 

জানা যায়, সারা জীবন অন্যায়ের সাথে আপোষ না করা দ্বিতীয় ওয়ারিশ ঐ ছোট ভাই তার হিস্যা বুঝে পেতে বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রাখে, কিন্তু একই থানা এলাকায় বসবাস হওয়া সত্বেও তা সম্ভব হয়ে উঠে না এই জন্য যে, বড় ভাই সর্বদাই তার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মুঠোফেনে নক করলে রিসিভ না করে কেটে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের মোবাইল নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়। অতঃপর ছোট ভাই আজিমপুরে তার বাসায় উপস্থিত হয়ে দরজা নক করলে ভেতর থেকে জানানো হয় তিনি বাসায় নেই। বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও অন্যান্য সদস্যরা অপরিচিত মানুষদের মত আচরণ করে তার সাথে। অপমানজনক কথা বলে দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। 
সম্প্রতি চলার পথে লালবাগ থানাধীন পলাশী এলাকার এক রাস্তায় এই দুই ভাইয়ের দেখা হয়ে যায়। 

এ সময় বড় ভাই ছোট ভাইকে না চেনার ভান করে মুখ ঘুড়িয়ে তড়িঘড়ি রিকসায় উঠে চলে যেতে চাইলে ছোট ভাই গতি রোধ করে তাকে বলে যে, ‘তোমার সাথে কথা আছে, একটু দাঁড়াও।’ এর উত্তরে ‘তোমার সাথে আমার কোনো কথা নাই’ বলে বড় ভাই তাড়া দেখালে ছোট ভাই তখন বলে ‘তুমি আমার সাথে কথা বলতে না চাইলে বলো না, তবে তার আগে আমার হিস্যা আমাকে বুঝিয়ে দাও।’ এভাবে কথা চলার এক ফাঁকে ছোট ভাই কিছু বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ বড় ভাই ভোঁ-দৌড় দেয়। ছোট ভাইয়ের চোখের সামনে থেকে বড় ভাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। আর এভাবেই তাদের পৈত্রিক বৈষয়িক বিষয়াদির হিসাব-নিকাশ ঝুলেই রয়। 

পুরান ঢাকার লালবাগে বিপুল পরিমান অর্থ-বিত্তের মালিক ছিলেন কে এই হতভাগা মৃত পিতা, যার নিজের জায়গা-জমি ও একাধিক বাড়ি থাকা সত্বেও ভাড়া বাসায় থেকে দীর্ঘদিন অসুস্থাবস্থায় ধুকে ধুকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে। আর বড় ভাই নামের কলঙ্ক এই পারিবারিক দুর্নীতিবাজ ও লম্পটের পরিচয়ই বা কি? বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন অপরাধ অনুসন্ধানমূলক জাতীয় সাপ্তাহিক ‘বার্তা বিচিত্রা’য়।

Leave Your Comments