মিঠাপুকুর প্রতিনিধি।।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত শিক্ষক,শিক্ষার্থী,প্রাক্তণ শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাববাসীরা। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি আঞ্চলিক সড়কের তালিমগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তা মোড়স্থ প্রতিষ্ঠানের সামনে হত্যাকারীদের গ্রেফতারে দাবীতে দেড় ঘন্টা সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুড় ১২.২০ মিনিটে তালিমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শরীর চর্যা বিষয়ের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে প্রতিবেশী কর্তৃক রহস্যজনক হত্যা,হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ও প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়-গত ২৭ শে মার্চ বিকালে আন্ধারকোটা গ্রামে মৃত ছামাদদের ছেলে মান্নান হাজীর নেতৃত্বে মোতালেব হোসনে,সাইদুল ইসলাম,মকিম,মমিনুল,আজিজুল,মতু,রওশন,আনিছুর ও মোসলেম ব্যক্তিবর্গ হামলা করেন।এ বিষয়ে গত ১৭ই মার্চ তারিখে মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ করেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়-পূর্ব শত্রুতার জেড় ধরে ক্ষেত থেকে থেকে আসার পথে পথরোধ করিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বুকে,পিঠে,মাথায়,কোমড়ে,দুপায়ে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চাপিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন।
মরুহুমের স্ত্রী আমেনা বেগম থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়-আন্ধারকোঠার পুরাতন মসজিদ নিয়ে তার স্বামীর সাথে বিরোধ চলে আসছিলো।গত ২৬ তারিখে ২৬শে মার্চের অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষে বিদ্যালয় থেকে নিজ বাড়িতে আসার সময় তার স্বামীকে দেখতে পাইয়া পুরাতন মসজিদের আম বাগানের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।তার স্বামী নতুন ও পুরাতন মসজিদ মিলে আনুপাতিক হারে আম বাগান ভাগ-বাটোয়ারা করার প্রস্তাব দেন ও অনুরোধ করেন।তখন সংশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তার স্বামীকে ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়ার তুই কে?তুই কি গ্রামের মাতব্বর বলে ধাক্কা ধাক্কি ও কিল ঘুশি মারতে থাকেন এঘটনার পর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাত অটোযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।সকলের সামনে এহেন আচরণ করার তার স্বামী অপমান সহ্য করতে না পেরে ২৭শে মার্চ সকালে বাড়ির সকলের অগোচরে বসতবাড়ি থেকে ৫শত গজ দূরে কীটনাশক জাতীয় বিষ পান করে ছটপট করতে থাকেন।পরে তাকে উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান পরে সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় দুপুড় ১টায় মারা যান। মরাদেহ বাড়ি থেকে মিঠাপুকুর থানায় নিয়ে এসে সুরতহাল রির্পোটের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পূর্ণ করা হয়।
এঘটনার পর ২৯ তারিখে তালিমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। এসময় প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীরা যোগ দেন আব্দুর রাজ্জাক আত্মহত্যার বিচারের দাবীতে ।মানববন্ধনের পরে ১২.৫০মিনিট থেকে ২.১০মিনিট প্রযন্ত মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় রাস্তার পূর্ব ও পশ্চিম দিকে শতাধিক গাড়ি আটকে যানযটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডি-সার্কেল(মিঠাপুকুর-পীরগঞ্জ)এএসপি কামরুজ্জামান । তিনি বিক্ষুপ্ত শিক্ষার্থী ও জনতাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে নানাবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন হন।
এসময় আন্দোলনকারীদের আত্মস্থ করে কামরুজ্জামান বলেন-আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এমন আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় অবরোধ তুলে নেয় এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়।