মেডিকেলে চান্স পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে বিরামপুরের ইউএনও

Date: 2023-04-02
news-banner



বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (২০২২-২৩) এর ফলাফল। প্রতি বছরই দরিদ্র অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহে স্থান অর্জনের সৌভাগ্য লাভ করেন। যাদের যথাযথ সামর্থ্য না থাকায় ভর্তি হওয়ার ফি নিয়ে পড়তে হয় দুশ্চিন্তায়। তেমনই দুইজন মেধাবী মুখ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার আয়েশা সিদ্দিকা হাবিবা ও আফসানা ফারহানা মিমি।

তারা দুজনেই প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সব পরীক্ষায় রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। হাবিবা এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ কিশোরগঞ্জ এবং মিমি এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ সিলেটে মেধা তালিকায় ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। তারা দেশের অন্যতম দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে তাদের মেডিকেলে ভর্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না তাদের পরিবারের। বিষয়টি জানতে পেরে হাবিবা এবং মিমির পাশে দাঁড়িয়েছেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার।

আয়েশা সিদ্দিকা হাবিবা উপজেলার কাটলা ইউপির বেনীপুর গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের মেয়ে। অপরদিকে আফসানা ফারহানা মিমি পৌর শহরের বেগমপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। তারা দুজনেই কাটলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১২ বছর আগে হাবিবার বাবা মারা গেছে। মা গরু-ছাগল পালন করে এবং অন্যান্য কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তা ও ব্যাংক থেকে পাওয়া বৃত্তির টাকা দিয়ে এতদিন পড়াশোনা করেছে। তিন ভাই বোনের মধ্যে হাবিবা সবার বড়। অপরদিকে মিমির বাবা-মা আলাদা থাকে। মা গার্মেন্টসে কাজ করে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়েছে।

গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার হাবিবা ও মিমির হাতে তুলে দেন ভর্তি খরচের টাকা। আর্থিক সহযোগিতা পাবার পর হাবিবা ও মিমি প্রতিবেদককে বলেন, আর্থিক অনটনের মধ্যেও নিজের ইচ্ছাশক্তি আর সবার দোয়ায় এ পর্যায়ে পোঁছাতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের পরিবারের পক্ষে মেডিকেলে ভর্তির টাকা জোগাড় করা কষ্টকর হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর ইউএনও পরিমল কুমার সরকার আমাদের ভর্তির টাকা দিয়ে সহযোগিতা করায় আমরা অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। এ সহায়তা সব সময় মনে থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার বলেন, মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর তারা দুজন অভিভাবকসহ আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। ভর্তি হবার মত যথেষ্ট সামর্থ্য তাদের ছিল না। জীবনযুদ্ধে তারা যেন হেরে না যায় অথবা পথ হারিয়ে না ফেলে। সেজন্য তাদের ভর্তির জন্য অর্থ সহায়তা করে তাদের কঠিন পথের শুরুটা সামান্য মসৃণ করার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন, এ ধরণের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা অসাধারণ মেধাবী মুখগুলোই আমাদের ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হবে। 

Leave Your Comments