এস আই খানঃ
নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলাধীন নারায়নপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর সরাফত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহমান আঙ্গুর মিয়া বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নির্বাচনের নামে দাতা সদস্যদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ লেনদেন, সেচ্ছাচারিতা, সরকারী নিয়ম বহিঃর্ভূত দাতা সদস্য নিয়োগ, অবৈধ অর্থ উপার্জন, নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক বিষয়ে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগ করেছেন কাজী শামিম হাসান নামে এক দাতা সদস্যপ্রার্থী।
অভিযোগের অভিযোগকারী উল্ল্যেখ করেন যে, নারায়নপুর সরাফত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান আঙ্গুর মিয়া কর্তৃক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম ও সরকারী বিধি লঙ্ঘন করে সেচ্চাচারিতার বিষয়ে গত ১৮/০৪/২০১৯ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বেলাব, নরসিংদী ও ২৭/০৪/২০১৯ ইং তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড. ঢাকা বরাবর মোঃ খোরশেদ আলমসহ অধিকার বঞ্চিতরা বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৮/০৪/২০১৯ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশক্রমে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন শুনানী করেন। সেই শুনানীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য বলে তিনি প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২৭/০৪/২০১৯ ইং তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা এর চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করা হলে ২৩/০৭/২০১৯ইং তারিখে বোর্ড থেকে জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়। সে প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সৈয়দ উদ্দিন ২২/০৯/২০১৯ইং তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন (সংযুক্ত) দাখিল করেন। সেখানে জেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক দাতা সদস্য নিয়োগ বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে উল্ল্যেখ করেন। সেই সাথে পুনরায় বিধি মোতাবেক দাতা সদস্য নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সুপারিশ করেন। এছাড়াও প্রধানশিক্ষক নিজেও অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। কেননা তার একাডেমিক সার্টিফিকেটে ২টি তৃতীয় শ্রেণী ও একটি ২য় শ্রেণীতে পাশ করে টাকার বিনিময়ে তৎকালীন কমিটিকে ম্যানেজ করে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি গত সভাপতির সাথে মিলে নিয়োগবাণিজ্য করেছেন। গত ২০২০ সালের পর তিনি প্রায় ৭০ লাখ টাকার জমিজামা ক্রয় করেছেন, তিন তলা বাড়ি নির্মাণ ও নারায়নপুরে ইসলামী ব্যংকের এজেন্ট শাথা খুলেছেন। কিন্তু এসব টাকার উৎস কোথায়? অভিযোগে আরো ২০০৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয় ও ব্যয়ের অডিট আসলে তিনি অডিট কমিটির সাথে কারসাজি করে অডিট স্থগিত রাখেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
***এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্বিতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তাই চোখ রাখুন সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা প্রত্রিকায় ও অনলানে।