আল আমীন (শেরপুর প্রতিনিধি)
ফসল রক্ষায় বন্যহাতি তাড়াতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত কৃষক বিজয় কুমার (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গত ২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী পূর্ব সমেশ্চুড়া ও কালাপানি পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেরপুর সদর হাসপাতালে মারা যান। নিহত বিজয় কুমার পূর্ব সমেশ্চুড়া গ্রামের মরহুম স্টিফেন মারাকের ছেলে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে বন্যহাতির অব্যাহত তান্ডবের একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার রাতে কালাপানি ও পূর্ব সমেশ্চুড়া পাহাড়ি এলাকায় উঠতি বোরো ফসলের ক্ষেতে এবং মধুটিলা রেঞ্জের নার্সারিতে হানা দেয় বন্যহাতির একটি দল। ফলে ফসল রক্ষায় হাতি তাড়াতে স্থানীয়রা মশাল ও সার্চ লাইট জ্বেলে, পটকা ফাটিয়ে এবং হৈ-হুল্লোড় করে হাতির আক্রমণ রুখতে চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কালাপানি এলাকার ফসলি জমিতে হানা দিলে কৃষক বিজয় কুমার তার ফসল রক্ষায় হাতি রুখতে যান। এসময় হাতি শুঁড়ে পেচিয়ে ও পায়ে পিষ্ট করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যায় বিজয় কুমারকে। পরে গুরুতর অবস্থায় স্বজনেরা প্রথমে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বিজয় কুমার মারা যান।
মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাতে বন্যহাতির দল ইকোপার্কে প্রবেশ করে নার্সারীতে তান্ডব চালিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২৪ হাজার চারা ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তিনি আরও বলেন, বন্যহাতির তান্ডবে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত বিজয় কুমারের পরিবারকে ২৫ হাজার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আরও ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।