মিঠাপুকুরে টাকার লোভে ও পরক্রিয়ার জেরে স্ত্রীকে তালাক, প্রতিবাদ করায় নির্যাতন।

Date: 2023-05-05
news-banner



মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখালে স্ত্রীর গার্মেন্টসে চাকরি করার কষ্টের টাকা ভোগ করতে তালাক দিয়েছে স্বামী। বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করতে গেলে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয় স্ত্রী। প্রতিকার চেয়ে শুক্রবার সকালে মিঠাপুকুর  থানায় এজাহার দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ওই নারী।

এজাহার ও একালাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে রাহেনুল ইসলাম (৩০) এর সাথে পার্শ্ববর্তী এলাকার শংকরপুর গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের  মেয়ে রিনা বেগম (২৬) এর সাথে প্রায় ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সংসারে অভাব নিত্য সঙ্গি হয়ে দাড়ায়। স্বামীর সংসারকে অভাব মুক্ত করতে রিনা পাড়ি জমায় ঢাকায় । সেখানে চাকুরী নেন একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টোরিতে। এর মধ্যে রিনা বেগমের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় ছেলে রাকিবুল হাসান রিফাত  (১১)। রিনার চাকুরির বেতনের টাকায় অভাবের সংসারে হাল ধরে। স্বামীর সংসারে অভাব কিছুটা কমে ধীরে ধীরে সুখের সূর্য উঁকি দিতে থাকে। সংসারে আরো দ্রুত আয় বাড়ানোর আশায় বেকার স্বামীকে কাজে ফেরাতে চেষ্টা করে স্ত্রী রিনা বেগম। বিভিন্ন ফ্যাক্টোরিতে স্বামী রাহেনুলকে কাজে দিলে সে চাকুরি ছেড়ে দেয়। এঅবস্থায় উপায় না পেয়ে অজ্ঞাত জীবনের সমস্ত সঞ্চিত টাকা,একটি শখের মোটরবাইক ও ব‍্যবস‍্যা করার জন‍্য একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ তুলে স্বামীকে দেয় স্ত্রী রিনা। ব‍্যবসায় লাভবান হয়ে মোড় ঘুরে যায় রিনা ও রাহেনুলের সংসারের। এরই মাঝে বছর খানেক আগে রিনার চোখে ধরা পড়ে রাহেনুলের অস্বাভাবিক চলা ফেরার। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে ব‍্যবসার আয়ের অর্থে অন্য মেয়েদের নিয়ে ফূর্তি করে বেড়ায় রাহেনুল। তারপর থেকে চাকুরির বেতনের টাকা ও ব‍্যবসার থেকে আসা আয়ের হিসেব চায় রিনা। এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া বাঁধে। রাহেনুল এবং তার ভাই রাজ্জাক আলী রিনাকে নানা ভাবে নির্যাতন করতে থাকেন।পরে নিজের কাছে স্ত্রীর জমানো টাকা আত্মসাৎ করতে ফন্দি করে রিনাকে তালাক দেয় রাহেনুল।

ওই দিকে তালাকের পরিপূর্ণ সময় না পেরুতেই রাহেনুল ফন্দি আঁকেন আরেক নতুন বিয়ের। স্বামী রাহেনুল পুনরায় বিয়ে করবে এবং ছেলে রাকিবুল ইসলাম রিফাত অসুস্থ হয়ে পড়েছে এমন খবর শুনে স্ত্রী রিনা বেগম রাহেনুলের বাড়িতে গেলে রাহেনুল তাকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা শেষে বাবার বাড়িতে চলে আসে রিনা। এঅবস্থায় বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়কবার ইউনিয়ন পরিষদে জানানো হলেও আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। পায়নি কোনো প্রতিকার বরং ধামাচাপা চেষ্ঠা করেছে। পরে নিরুপায় হয়ে রিনা বেগম 
দেনমোহর, খরপোষ ভরণ-পোষণ দাবি করে শুক্রবার সকালে বাদি হয়ে মিঠাপুকুর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে রাহেনুলের বাড়িতে গিয়ে রাহেনুলকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই রাজ্জাক আলী বলেন, আমার ভাইকে আবার বিয়ে দেবো।দেখি কে ঠেকাতে পারে। থানায় এজাহার দিয়েছে তো কি হয়েছে! মামলা রেকর্ড হবে না।সব কিছুই প্রসেসিং করে রেখেছি। আগের বউয়ের সাথে ঝগড়া ঝাটি হওয়ায় তাকে তালাক দিয়েছে আমার ভাই রাহেনুল। মহিলা খুব খারাপ বলে জানান তিনি। তিনি এর বেশি কিছু জানেন না।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আবু বক্কর সিদ্দিক  বলেন,এবিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments