রতন বাবু স্টাফ রিপোর্টার।।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করে হঠাৎ কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ছেন। আবার কবে কাজ শুরু হবে আর কবে শেষ হবে এ নিয়ে স্থানীয়দেও মাঝে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। এদিকে সঠিক সময়ে কাজ না করার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এতে করে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরাও রয়েছে দূর চিন্তায়। তবে শীঘ্রই কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়ে সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারকে চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।
জানা গেছে, চলতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (চঊউচ-৪) আওতায় সুপার স্ট্রাকচার, সাব স্ট্রাকচার ও অতিরিক্ত খরচের ব্যায় বাবদ মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চিলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৪৫১ টাকা ও গোকর্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৬০০ টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে। বিদ্যালয় দুটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনা কন্ট্রাকশন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান দুটির নির্মাণ কাজের মান নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে সংশ্লিষ্ঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকার সচেতন মহলের সাথে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের বালু, রাবিশ যুক্ত খোয়া ও দলা যুক্ত সিমেন্ট ব্যবহারে বাধা দেয় স্থানীয়রা। কিন্তু ঠিকাদার স্থানীয়দের অভিযোগ আমলে না নিয়ে কাজ করতে থাকে। বিষয়টি পরর্বতীতে দুই প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্বে থাকা দুই উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন ও মোঃ ইব্রাহীম হোসেনের নিকট অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মেলেনি। উল্টো স্থানীয় লোকজনদের হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে কোনঠাসা করে ঠিকাদারের নিজস্ব প্রতিনিধি রতন নামের এক ব্যক্তি নিম্নমানের কাজ করতে থাকে। এরপর চিলাখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম স্থানীয়দের সাথে নিয়ে ঠিকাদারকে সঠিকভাবে কাজ করার আহবান জানান। কিন্তু মাত্র দুদিন পরেই ঠিকাদারের প্রতিনিধি রতন এসে কাউকে কিছু না জানিয়ে নির্মাণ সামগ্রীর সমস্ত মালামালসহ মিস্ত্রীদের নিয়ে চলে যান।
এদিকে গত ৬ই এপ্রিল গোকর্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রেডবীম ঢালাইয়ের সময় সেখানে নিম্নমানের রাবিশ খোয়া ও জমাট বাধা সিমেন্ট দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলীসহ শত শত এলাকাবাসীর সাথে জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের সাথে কাজের মান নিয়ে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর সেখানেও কাজ বন্ধ কওে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনা কন্ট্রাকশন।
চিলাখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকাল চলে আসছে, খুব চিন্তায় আছি। এর মধ্যে অনিয়ম করে ঠিকাদারের লোকজন কাজ বন্ধ করে চলে গেছে। ওরা চলে যাওয়ার পর থেকে কেউ আর আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। না ঠিকাদারের লোকজন, না প্রকৌশলীদের কেউ। খারাপ কাজের দায়ভার আমরা নিব কেন? আর চোখের সামনে নিম্নমানের কাজ করতেও দিতে পারিনা।
গোকর্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, ঠিকাদারের প্রতিনিধি রতন ছেলেটা একটা বেয়াদব। সে সবকিছুতেই পাওয়ার দেখায়। পীরগঞ্জের ছেলে বলে সামান্য বিষয়েও বড় বড় নেতার ভয় দেখায়। নিম্ন মানের কাজের প্রতিবাদ করলে সে এই বিদ্যালয়ের কাজ এখন হবেনা বলে জানিয়ে চলে গেছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলী স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন কাজ যা হবে ভালো কাজ হবে। তবে নির্মাণ কাজ দেরী হওয়াতে আমরা বেশ বেকায়দায় পড়েছি। বাচ্চাদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই সাথে সামনে জাতীয় নির্বাচন। আমার স্কুলও একটা নির্বাচনী কেন্দ্র।
এ বিষয়ে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনা কন্ট্রাকশনের প্রপাইটার নজরুল ইসলাম নলেজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মন্তব্যের জন্য কাজের স্থানগুলোতে খুঁজেও তার দেখা মেলেনি।
এ বিষয়ে গোকর্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবণ নির্মাণে দেখভালের দ্বায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিঠানের সাথে স্থানীয়দের সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কাজ খারাপ হয়নি। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি।
চিলাখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে দেখভালের দ্বায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, স্থানীয় সচেতসন মহল আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মাঝে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কিন্তু যেটা প্যাটার্নে নাই সে কাজ ঠিকাদার কিভাবে করবে। আমরা সবাইকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নিয়েছি। দ্রতই কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলামকে কয়েক দফায় ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান বলেন, বর্তমানে শ্রমিক সংকট চলছে। অনেক শ্রমিক এখন ধানকাটা নিয়ে ব্যস্ত এজন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুতই কাজ শুরু হবে, কোনো সমস্যা নেই। ঠিকাদার ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো ভালভাবে দেখা হবে যাতে কারও মাঝে কোন প্রকার ভুল বোঝাবুঝি না থাকে। আমরা ২/১ দিনের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে যাব। শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে এবং কাজ শুরু হবে।