আব্দুল্লাহ আল মামুন (ঢাকা ব্যুরো চীফ): পিরোজপুরের শংকরপাড়ায় চাঞ্চল্যকর রেনুকা বেগম (৪০) হত্যাকান্ডের মূল নায়ক তার স্বামী মো. মিলন ফকির (৩৫) ও সহযোগী মো. মামুন ফকিরকে (২২) ঢাকার গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। মামুন ফকির ভিকটিম রেনুকা বেগমের দেবর ও মিলন ফকিরের আপন ছোট ভাই। পারিবারিক কলহের জের ধরে রেনুকাকে জীবন দিতে হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা যায়।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক এ্যাডিশনাল ডিআইজি. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বার্তা বিচিত্রাকে জানান যে, গত বছর এপ্রিল মাসের ২১ তারিখে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন কঁচা নদীর পশ্চিম পাড় হতে পুলিশ বস্তাবন্দী অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে ইন্দুরকানি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং- ৮, তারিখ- ২২/০৪/২০২২ খ্রিঃ এবং ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড। অতঃপর পুলিশ অনুসন্ধান করে জানতে পারে যে, উক্ত নারীর নাম রেনুকা বেগম এবং সে পিরোজপুর থানাধীন শংকরপাড়া এলাকায় বসবাসকারী জনৈক মো. মিলন ফকিরের স্ত্রী।
পরবর্তীতে উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রেরিত এক অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল উক্ত চাঞ্চল্যকর নৃশংস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাবের এর ঐ আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ মে মঙ্গলবার গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি থানাধীন চৌ-রাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রেনুকা হত্যাকান্ডের মূলহোতা ভিকটিমের স্বামী মো. মিলন ফকির ও মিলনের সহযোগী তারই আপন ছোট ভাই মো. মামুন ফকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের নিকট থেকে ২ টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, পারিবারিক কলহের জের ধরে ভিকটিমের স্বামী মিলন তার আপন ছোট ভাই মামুনের সহযোগীতায় ভিকটিম রেনুকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অতঃপর রেনুকা বেগম গুম হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার লাশটি বস্তাবন্দী করে ইন্দুরকানি থানাধীন পাড়েরহাট এলাকা সংলগ্ন কঁচা নদীতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।