কাওছার আহমদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে রুবেল মিয়া (১৫) ও জিবান আহমদ (১৬) নামে দুই কিশোরকে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় আদালতে জামিন চাইতে গিয়ে অভিযুক্ত আসামি খালিদ হাসান রুমেল ও তার দোকানের কর্মচারী পাপ্পু পালকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৩ জুলাই) মৌলভীবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দাউদ হাসান তাদেরকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমদ সবুজ জানান, গত ১৯ জুলাই একটি কোমল পানীয় চুরির অপবাদে ওই দুই কিশোরকে নির্যাতন করে রুমেলসহ তার দোকানের কর্মচারীরা। পরদিন ২০ জুলাই এ ঘটনায় কিশোর রুবেলের ভাই কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করলে ওইদিন পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে। পরে কৌশলে রুমেল ও পাপ্পু জামিনে মুক্ত হয়ে যান।
রবিবার (২৩ জুলাই) সকালে কিশোর নির্যাতনের আসামি রুমেল ও পাপ্পু মৌলভীবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন চাইতে গেলে কিশোরদের ভয়াবহ নির্যাতনের ছবি আদালতের বিচারকের নজরে আনলে দীর্ঘ শুনানির পর বিচারক অভিযুক্তদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
মামলার বাদী প্রতিবন্ধী রুবেলের ভাই রাসেল মিয়া জানান, গত ২১ জুলাই অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে রবির বাজারে অনেকের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। এতে আমরা হতাশ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হই। তিনি দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই বিকেলে মালবাহী গাড়ি থেকে পণ্য নামানোর জন্য প্রতিবন্ধী কিশোর রুবেলের সঙ্গে চুক্তি করেন রবির বাজারের বেঙ্গল ফুডের পরিবেশক রুমেল। মাল নামানোর সময় কোমল পানীয় টাইগারের একটি বোতল নিয়ে যায় রুবেল। বিষয়টি দেখে রুমেল ও তার দোকানের কয়েকজন কর্মচারী রুবেলকে আটক করলে তাকে ছাড়াতে জিবান নামে আরেক কিশোর এগিয়ে আসে। পরে তাদের দুজনকে রুমেলের দোকানের ওপরে একটি শরীরচর্চা কেন্দ্রে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের পর চুরির অভিযোগে রবির বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির অফিসে ওই দুই কিশোরকে নেওয়া হলে সমিতির নেতারা সাদা কাগজে নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের অভিভাবকদের স্বাক্ষর নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওেয়া হয়।