ইবিতে ছাত্রী নির্যাতন ঘটনা ক্ষমার যোগ্য না: হাইকোর্ট

Date: 2023-07-27
news-banner

  


আহসান হাবিব ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবিছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁ ছাত্রীর বহিষ্কারের আদেশঅকার্যকর করেছে হাইকোর্ট। একই সাথে  পাঁচ জনের সাজা পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করতেবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। 


বুধবার (২৬ জুলাইবিচারপতি জে বি এম হাসান  বিচারপতি রাজিক  জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ  নির্দেশ দেন।  বিষয়েআগামী ২৩ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দে হাইকোর্ট।


এর আগে গত ১৫ জুলাই ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কোড অব কন্ডাক্১৯৮৭ এর অধ্যায়  ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এই শাস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিধি সম্মতি হয়নি বলেমন্তব্য করেন কোর্ট।


প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  বিষয়ে শাস্তি নির্ধারণ রবেন। পরে তিনি শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠাবেন। উপাচার্যের শাস্তিযথাযথ হয়েছে কি না সে ব্যাখ্য-বিশ্লেষণের পর চূড়ান্তভাবে শাস্তি রোপ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটি। শৃঙ্খলাকমিটির সিদ্ধান্তে শাস্তি কম-বেশি হতে পারে। কিন্তু এই পাঁচ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে উপাচার্য কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়শৃঙ্খলা কমিটি সরাসরি শাস্তি আরোপ করেছেন। পাঁচজনকে এক বছরের জন্ বহিষ্কার করেছেন। কিন্তু এই হিষ্কার আদেশটিযথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নতুন করে শাস্তি আরোপ রতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশদিয়েছেন হাইকোর্ট।


এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক  ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করে  ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির রায় বহালরাখার আবেদন করেন। পরে আদালত আবরার হত্যা মামলার কথা তুলে ধরেন। এবং বলে  ঘটনায় ক্ষমা করা যাবে না।এটা ক্ষমার যোগ্য না।  ঘটনায় প্রশাসনের দায়ভার আছে। সব ঘটনা সামনে আসেনা। কিন্তু ঘটনাতো ঘটেই যাচ্ছে। 


 বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ছাত্রী ফুলপরী খাতুন বলেনআমি আমার দাবিতে অনড় অবস্থায় রয়েছি। তাঁদেরকেবিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হোক এটা আমার চাওয়া।


 বিষয়ে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা বলেনহাইকোর্ট যে বিধান অনুযায়ী পুনরায়শাস্তি নির্ধারণের বিষয়ে নির্দে দিয়েছেন বিষয়টি আমি জানিনা। জানার পর মন্তব্য করবো।


 বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসেন আজা বলেনকোর্ট থেকে চিঠি আসলে বিস্তারিত বলতেপারবো। কোর্ট যেটা অর্ডার দেয় সে আলোকেই আমরা ব্যবস্থা নিবো। 


উল্লেখ্যগত ১১  ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ফুলপরি খাতুন নামে এক নবীন ছাত্রীকেরাতভর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রলীগ নেত্রী  পরিসংখ্যান বিভাগের সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ফিন্যান্স অ্যান্ডব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলামমোয়াবিয়া জাহানআইন বিভাগের ইসরাত জাহা মীম  ফাইন আর্টস বিভাগেরহালিমা খাতুন উর্মীর বিরুদ্ধে।


 নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হলবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন  উচ্চ আদালত এবং শাখা ছাত্রলীগসহ পৃথক ৪টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের আলোকে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে হাইকোর্টের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিযুক্ত  শিক্ষার্থীকেসাময়িক বহিষ্কার করা হয়।  ছাড়াও হল প্রশাসন  ছাত্রলীগ তাঁদের তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বহিষ্কার করে

Leave Your Comments