প্রতিদিনের ভোগান্তির নাম শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়ক

Date: 2023-08-29
news-banner



মো:নূর আলম,দূর্গাপুর, নেত্রকোনা

নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কের বিরিশিরি হতে শান্তিপুর পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা এখন চরমে। তাই ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিন খুব ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয় নাগরিকদের।

সড়কে প্রচুর খানাখন্দ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। আর বাড়তি ঝক্কি হিসেবে নিত্যদিনকার দীর্ঘ জ্যাম তো আছেই। ভেজা ও অতিরিক্ত বালুবোঝাই যান চলাচলের কারণে সড়ক নষ্ট হয়ে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া হঠাৎই সড়কে সৃষ্ট গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায় যানবাহন। ফলে সড়কের একপাশ বন্ধ হয়ে দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ। এটি কেবল এক দুদিনের সমস্যা নয়,বরং বছরের প্রতিটি দিনই এমন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় নাগরিকদের ভোগান্তির পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দুর্গাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকরা। ভোগান্তির কারণে কেউ একবার এলে পরে আর এখানে আসতে চাননা। ঢাকা থেকে দুর্গাপুরের অপরূপ পাহাড় আর সোমেশ্বরী নদীর অপার সৌন্দর্য অবলোকন করতে এসেছিলেন পর্যটক ফরহাদ রেজা। 

কিন্তু সড়কের এই বেহাল অবস্থার কারণে তিনি দ্বিতীয়বার আসার আগ্রহ হারিয়েছেন। তিনি বললেন,সড়কে জ্যামের কারণে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে থাকতে প্রচন্ড বিরক্তি এসে যায়। যে সময় নিয়ে এখানে এসেছি সেই সময়ে এখানকার পর্যটনশিল্পের অনেক কিছুই দেখা সম্ভব হয়নি,কারণ জ্যামের কারণে স্পটে পৌঁছতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

এই সড়কের প্রায় ৬ কিলোমিটারই খানাখন্দ আর গর্তে ভরপুর। আর সড়কজুড়ে কাদার রাজত্ব। সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় সড়ক সংস্কারের অংশ হিসেবে ২৪শ মিটার পৃথক পৃথক স্থানে আরসিসি সড়ক নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সড়কের কিছু স্থানে এক পাশের কাজ শেষ হলেও অন্য অংশের কাজ এখনো থেমে আছে। এতে সড়কের একপাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলে দীর্ঘ সময়ের যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান,ভেজা ও অতিরিক্ত বালু পরিবহন করায় সড়কের এই হাল। কর্দমাক্ত এই পথ এখন দূর্ঘটনার প্রধান স্পট। প্রায় প্রতি মাসেই কোন না কোন দূর্ঘটনা লেগেই থাকে। 

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন,কাদা আর ট্রাকের জ্যামে অতিষ্ঠ সবাই। আমার বাড়ি লক্ষীপুর থেকে দুর্গাপুর যেতে ২০ মিনিটের রাস্তা এখন দুই ঘন্টাও লাগে। এই দুরাবস্থা দেখার কেউ নেই। সড়কটি দিয়ে অসুস্থ রোগী নিয়ে উপজেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু যানজটের কারণে দ্রুত পৌঁছানো যায়না। ফলে অনেক রোগী রাস্তাতেই মারা যায়।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আল নূর সালেহীন বলেন,ওই সড়কে বালুর ট্রাক চলাচলে রাস্তা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছে। মানুষের কষ্ট তো আছেই। সড়কের পৃথক পৃথক স্থানে মোট ২৪শত মিটার আর সিসি'র কাজ চলমান রয়েছে। সড়কের একপাশের কাজ শেষ করে ২৮দিন পর অপর পাশের কাজ ধরতে হচ্ছে। এ সড়কে অনেক গাড়ি চলাচল রয়েছে তাই সড়ক বন্ধ রেখে কাজ করা যায় না।

Leave Your Comments