আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সহিদুল হককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বকভাবে রক্তাক্ত জখম করা একই বিদ্যালয়ের দারোয়ান আশিকুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছে। গতকাল (২৭ আগষ্ট) রবিবার জামিনে মুক্তি পেয়ে সে নিজ এলাকায় ফিরে এসেছে বলে জানা যায়।
এর আগে গত ১৮ জুলাই, মঙ্গলবার দুপুরে অভিভাবক সমাবেশে ঘটে যাওয়া তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষদের সাথে বসে থাকা অবস্থায় সহকারী শিক্ষক সহিদুল হকের উপর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তহমিদুর রহমানের নির্দেশে আশিকুর রহমান অন্যান্যদের সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও রড দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে মাথায় গুরুতরভাবে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা হলে গ্রেফতার এড়াতে প্রায় ১ মাস পালিয়ে থাকা আশিকুর রহমান গত ১৬ আগষ্ট (বুধবার) আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
শিক্ষক নির্যাতন ঘটনার পরদিন ১৯ জুলাই, বুধবার বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম তার বক্তব্যে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবী জানায়। সেই সাথে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তহমিদুর রহমানের অপসারণেরও দাবী জানানো হয়। ১৮ জুলাই অভিভাবক সমাবেশে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বক্তব্য দেয়া-না দেয়া বিষয়ে ঘটে যাওয়া তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক সদস্য আলিহিমের ছেলে বিদ্যালয়ের দারোয়ান আশিকুর রহমান সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সহিদুল হকের উপর এমন নারকীয় তান্ডব চালাতে পারে কি না? এমন এক প্রশ্নের জাবাবে প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেছিলেন, “অভিভাবক সমাবেশে সহিদুল হক স্যার ভালো কথাই বলেছিলেন, তাতে সামান্য ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও তিনি যা বলেছেন, ঠিকই বলেছেন। পরে অফিসকক্ষে তারা (কমিটির লোকজন) যখন আসলো, আমরা শিক্ষকরা সহিদুল হক স্যারকে ঘিরে দাঁড়ালাম। পিছন থেকে ছেলেটা (দারোয়ান আশিকুর রহমান) এসে তাকে আঘাত করলো, আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারি নাই।”
এই প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলামের সাথে আবারো কথা হয় প্রতিবেদকের। জানা যায়, এখনও পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থাই গ্রহন করা হয় নাই আশিকুরের বিরুদ্ধে। জামিনে মুক্তি পেয়ে “আশিক পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সহিদুল হক স্যারের মুখোমুখি” এ অবস্থায় নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন এইটাতো বলা খুব মুশকিল, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নতুন আরো কোনো ঘটনার সৃষ্টি হবে কি না, এটাতো বলা মুশকিল। তবে, যদি ঘটে বাইরে থেকে ঘটতে পারে বা বাইরে ঘটতে পারে, স্কুলে সম্ভাবনা খুব কম, আমার মনে হয়।” বাইরে ঘটতে পারে স্যার বিষয়টি একটু যদি পরিস্কার করে বলেন, এভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাইরে বলতে মনে করেন যে, দেখা যাচ্ছে যে, এই ঘটনার বিষয়ের উপরে উনারা যেহেতু, সহিদুল স্যার এবং ঐ ছেলে একই গ্রামে, একই জায়গায় বাড়ি, উনাদের বংশগত কোনো ঝামেলা হতে পারে।”
বার্তা বিচিত্রার অনুসন্ধানে জানা যায় যে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে চারটি শূন্যপদে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগদানকে কেন্দ্র করে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক সহিদুল হকের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী ভিকটিমের ছেলে তানভীর মাহমুদ বলেন, “মামলা-মোকদ্দমায় আমরা অতটা অভিজ্ঞ নয়। তাই অল্প সময়ে তারাহুড়ো করে এজাহারে সব কথা গুছিয়ে লেখা হয় নাই। তবে বাবার প্রতি তাদের ক্ষোভ ছিল দীর্ঘদিনের।”
আরো জানা যায় যে, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা চলাকালীন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ, দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীসহ বিশাল জনসমাবেশের মধ্যে এই বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষককে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারনে সংঘবদ্ধ একটি দল শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছিল। যার মধ্যে আশিকুর রহমান, আশিকুর রহমানের পিতা আলিহিম ও চাচা তহমিদুর রহমান ছিল অন্যতম।