শেষ রক্ষা হল না শিক্ষক নির্যাতনকারী আশিকুরের

Date: 2023-09-04
news-banner



আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):  

শেষ রক্ষা হয়নি শিক্ষক নির্যাতনকারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানাধীন আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দারোয়ান আশিকুর রহমানের। অবশেষে সাময়িক বহিস্কারাদেশপত্র তার হাতে ধরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম। 

এর আগে আশিকুর রহমান একই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সহিদুল হককে মাথায় আঘাত করে মারাত্বকভাবে রক্তাক্ত জখম করলে একইদিন গত ১৮ জুলাই ভিকটিমের ছেলে তানভীর মাহমুদ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দয়ের করেন। যার মামলা নম্বর-২২। আশিকুর রহমান ছাড়াও এ মামলার আসামী তার বাবা আলিহিম মন্ডল ও চাচা তহমিদুর রহমান। মামলাটির তদন্তকারী অফিসার ৩১ জুলাই বিজ্ঞ আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। আশিকুর রহমান চার্জসীটভূক্ত আসামী হওয়ায় সরকারি বিধি মোতবেক পরদিন ১ লা আগষ্ট হতে তার সাময়িক বহিস্কারাদেশ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ৩১ আগষ্ট প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম তার সাময়িক বহিস্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন। 

বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায় যে, আশিকুর রহমানকে সেভ করতে প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম দীর্ঘ ১ মাস নিরন্তর চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু সে আশায় ‘গুড়েবালি।’ দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সাময়িক বহিস্কারাদেশে স্বাক্ষর করতেই হল। এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া দেননি প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম। 

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই, মঙ্গলবার দুপুরে এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষদের সাথে বসে থাকা অবস্থায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সহিদুল হকের উপর বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তহমিদুর রহমানের নির্দেশে আশিকুর রহমান অন্যান্যদের সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও রড দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে মাথায় গুরুতরভাবে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। 

বার্তা বিচিত্রার এক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা চলাকালীন শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ, দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীসহ বিশাল জনসমাবেশের মধ্যে এই বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষককে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারনে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছিল শিক্ষক লাঞ্চিত ও নির্যাতন কর্মে সিদ্ধহস্ত উল্লেখিত মামলার এই তিন আসামী আশিকুর রহমান, আশিকুর রহমানের পিতা আলিহিম মন্ডল ও চাচা তহমিদুর রহমান।

এ প্রসঙ্গে আরো জানা যায় যে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে চারটি শূন্যপদে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগদানকে কেন্দ্র করে ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষককে সমর্থন করতে না পারায় শিক্ষক সহিদুল হকের উপর তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিষয়টি মামলর এজাহারে উল্লেখ না থাকা প্রসঙ্গে মামলার বাদী ভিকটিমের ছেলে তানভীর মাহমুদ বলেন, “মামলা-মোকদ্দমায় আমরা অতটা পারদর্শী নই।

তাই অল্প সময়ে তারাহুড়ো করে এজাহারে সব কথা গুছিয়ে লেখা হয় নাই। তাছাড়া মামলার এজাহার লেখার সময় বাবার দুইজন সহকর্মীর সাথে প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

Leave Your Comments