দর্শনা প্রেসক্লাবে প্রতারক আদম ব্যাপারী ইউনুচের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন

Date: 2022-10-17
news-banner


দর্শনা অফিসঃ

চুয়াডাঙ্গার বেগমপুরের প্রতারক আদম ব্যাপারী ইউনুচের বিরুদ্ধে সংবাদিক সম্মেলন করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাস আলী। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে দর্শনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। সংবাদ সম্মেলনে বেগমপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্বাস আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার বাড়ির পাশে বসবাসকারী আদম ব্যাপারী দুবাই প্রবাসী মোঃ ইউনুচ আলী, পিতা-মৃত হযরত আলী, সাং বেগমপুর চিলমারীপাড়া, থানা দর্শনা, উপজেলা ও জেলা চুয়াডাঙ্গা। সে আমার পরিচিত। ইউনুচ আলী গত ৪ বছর আগে ছুটিতে বাড়ি আসলে পরিচয় সুত্রে আমার শ্যালক দর্শনা পৌরসভাধীন মোবারক পাড়ার মৃত-নূর  আহম্মদের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বন্ধুত্ব সম্পর্ক হয়। একপর্যায় আদম ব্যাপারী ইউনুচের ছুটি শেষ হয়ে গেলে দুবাই চলে যাই। দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্বের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। এই বন্ধুত্ব সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে আদম ব্যপারী ইউনুচ বিভিন্ন সময় চঞ্চলকে ৫০ হাজার টাকা বেতনের চাকরী দেবে বলে সৌদিতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইউনুচের কথা বিশ্বাস করে সৌদিতে যাওয়ার জন্য আমার শ্যালক চঞ্চল আত্নীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার দেনা করে ইউনুচের কথা মত তার স্ত্রীর কাছে গত ২০/৭/২০১৯ ইং তারিখে ৪লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেয়।
পরে আদম ব্যপারী ইউনুচ দুবাই থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ-ঢাকাস্থ মেসার্স জিমস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ০৬২৮) এজেন্সির মাধ্যমে তিন মাসের ভিসা দিয়ে ২/২/২০২০ ইং তারিখে চঞ্চলকে সৌদিতে নিয়ে যায়। ইউনুচ আলী সৌদিতে শুরু করে প্রতারণা। সে তিন মাসের মধ্যে কোন কাজ না দেয়া ও কোন খোজখবর না নেয়ায় চঞ্চলের ভিসা বাতিল হয়ে যায়। পরে চঞ্চলের পরিবারের লোকজন আদম ব্যবসায়ী ইউনুচের সাথে বহুবার চেস্টা করেও যোগাযোগ করতে পারেনি। সেই থেকে প্রবাসী চঞ্চল সৌদিতে অবৈধ্য ভাবে মানবেতর জীবন জাপন করছে।
সম্প্রতি দুবাই থেকে আদম ব্যাপারী ইউনুচ ছুটিতে বাড়ি এসে বিষয়টি অন্যদিকে নেয়ার জন্য সে বিভিন্ন লোকের বলে আমার কাছে ৭০ হাজার টাকা পায়। আমি লোকমুখে শুনে হতভম্ব হয়ে পড়ি।
পরে বিষয়টি নিয়ে গত ২৩/৯/২০২২ ইং তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ  বৈঠক বসে। বৈঠকে আদম ব্যাপারী ইউনুচ ১০ দিনের মধ্যে সৌদি প্রবাসী চঞ্চলের বৈধ কাগজপত্র এবং কাজের ব্যবস্থা করে দিবেন। অন্যথায় চঞ্চলকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিবেন বলে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে সই করে দেন। কিন্তু ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রবাসী চঞ্চলের জন্য কোন কিছুই করেন নি ইউনুচ। অবশেষে কোন কুল কিনারা না পেয়ে প্রবাসী চঞ্চলের মা অর্থ্যাৎ আমার শ্বাশুড়ী বৃদ্ধা জাহানারা বেগম চলতি মাস গত ৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা আদালতে আদম ব্যাপারী ইউনুচের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলা করায় চঞ্চলের পরিবার সহ মামলার সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন আদম ব্যাপারী ইউনুচ। এতে চরম নিরাপ্তাহীনতাই ভুগছে চঞ্চলের পরিবার সহ সাক্ষীগণ।
আদম ব্যাপারী ইউনুচ আলী একজন চিহ্নিত প্রতারক। আমার শ্যালক চঞ্চল ছাড়াও জীবননগেরর কাশিপুর গ্রামের মোস্তাফার ছেলে একরামুল সহ জেলার অনেকের সাথে প্রতারণা করেছে।

তাই, আমি আপনাদের মাধ্যমে মিথ্যাবাদি প্রতারক আদম ব্যাপারী ইউনুচ আলীর মুখোশ উন্মোচনের জোর দাবি জানাচ্ছি। আর যেন কোন প্রবাসী প্রতারনার শিকার না হয়। বিষয়টি আপনারা আপনাদের পত্রিকার মাধ্যমে তুলে ধরা ও ক্ষতিপূরণ সহ শংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ কাছে আদম ব্যাপারী ইউনুচের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

Leave Your Comments