চীনের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝেই ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে তাইওয়ান। তবে, এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি প্যাকেজটি। কংগ্রেসে পাঠানোর পর এটি চাইলে আটকাতে পারবেন আইনপ্রণেতারা। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
চলতি বছরের অগাস্টে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সাথে সাক্ষাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাইওয়ানে আক্রমণ করবে না চীন।
তবে, এমন প্রতিশ্রুতির পরও অনেকটা স্রোতের বিপরীত গতিতে গিয়ে তাইওয়ানের কাছে এই মেগা ওয়েপনস ডিলে সন্মতি দিলো ওয়াশিংটন।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য অনুমোদন করেছে ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি। এই অস্ত্র প্যাকেজটি দ্বীপটিকে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলে দাবি করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এইচআইএমএআরএস রকেট সিস্টেম, জাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র, আলটিয়াস লুটারিং মুনিশন ড্রোন এবং অন্যান্য সরঞ্জামের অংশাদি।
দেশটির মন্ত্রণালয় বলেছে, 'যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার ক্ষমতা বজায় রাখতে, দ্রুত শক্তিশালী প্রতিরক্ষার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।'
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে, বিশেষত কমিউনিজম প্রতিরোধ এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত (যেমন গাজা, ইউক্রেন যুদ্ধ) তাদের অস্ত্রশিল্পকে আরও লাভজনক করেছে, যা যুদ্ধের সময় মুনাফা করার ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যদিও এর পেছনে কৌশলগত কারণও রয়েছে।
মাইক্রোচিপ শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাইওয়ানকে। তাই কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দেশটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বৈশ্বিক প্রভাবে বিস্তারে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এগিয়ে থাকার প্রবণতা দেখিয়ে আসছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে, তাইওয়ানকে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা।
মূলত, তাইওয়ানকে নিজ দেশের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে চীন। এছাড়াও এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আগুনে অনেকটা 'ঘি' ঢালার মতো মন্তব্য করেছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায় তাকাইচি।
গত নভেম্বরের প্রথমদিকে জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ান আক্রমণ করে তাহলে জাপান নিজের নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে এর মোকাবিলা করতে পারে।
তার এমন মন্তব্যের পর বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সপ্তাহখানেক সময়ের মধ্যে, ওসাকার চীনা কনসাল জেনারেল এক সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে এক্স–এ মন্তব্য করেছেন, ‘যে নোংরা মাথা ঢোকানোর চেষ্টা করে, তা কেটে ফেলতেই হবে।’ টোকিও মন্তব্যটিকে ‘চরম অনুপযুক্ত’ বলে আখ্যায়িত করে। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
এ ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তাকাইচি বলেন, তার মন্তব্য ‘কাল্পনিক’ ছিল এবং ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে এমন মন্তব্য থেকে তিনি বিরত থাকবেন।
তবে, তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই অস্ত্র চুক্তি সম্পন্ন হলে আবারও চীন-মার্কিন সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।