আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ
ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের বাড়ি এখন শোকস্তব্ধ। বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝালকাঠির এসএস কামিল মাদ্রাসায় চলছে শোকের মাতম। প্রিয় এই সন্তানকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে না পারার বেদনাবিধুর আক্ষেপ বয়ে বেড়াচ্ছেন নলছিটিবাসী।
স্থানীয়রা জানান, মরদেহ এলাকায় পৌঁছাতে না পারায় বহু মানুষ আজও মানতে পারছেন না তার চলে যাওয়া। তবে শোকের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠিবাসী।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর ভাষ্যে—শৈশবকাল থেকেই হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। ২০০০ সালে তিনি ঝালকাঠির নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকেই ২০০৭ সালে দাখিল এবং ২০০৯ সালে আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি জেলা পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার অর্জন করে নিজের মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখেন।
পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। শিক্ষক, সহপাঠী, স্বজন ও গ্রামবাসীর কাছে হাদি কেবল একটি নাম ছিলেন না—তিনি ছিলেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এক সাহসী প্রতীক, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি।
এ কারণেই তার নির্মম হত্যাকাণ্ড কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না। নলছিটির মানুষ আজও বিশ্বাস করতে চান না—প্রতিবাদের সেই কণ্ঠস্বর আর নেই। শোক আর ক্ষোভে একাকার হয়ে তারা বলছেন, হাদির রক্ত যেন বৃথা না যায়—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।