রাজশাহী প্রতিনিধি :
নাটোরের বড়াইগ্রামে ভূমিদস্যু এক কলেজ শিক্ষকের নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী নুরুন্নাহার বলেন, ২০২০ সালে বিশেষ প্রয়োজনের কারণে তাঁর স্বামী, সিমেন্ট ও ঢেউটিন ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান ডাবলু, কালামের কাছে ৫ শতক জমি বিক্রি করেন। এরপর থেকেই কালামের প্রতারণামূলক কৌশল শুরু হয়।
নিজের ৫ শতক জমির সঙ্গে ডাবলুর জমির গুরুত্বপূর্ণ মুখগুলো ঘিরে ফেলে ডাবলুর জমির ওপর ক্রমান্বয়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন কালাম। এ বিষয়ে ডাবলু একাধিকবার কালামকে বললেও কোনো সুরাহা হয়নি। ভূমিদস্যু কালাম কোনো কথাই শোনেননি। বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চেষ্টা করেও কালামকে মানাতে ব্যর্থ হন।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারী জানান, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটেই কালাম নামের ওই কলেজ শিক্ষক হাবিবুর রহমান ডাবলুর জায়গায় জোরপূর্বক ইচ্ছেমতো প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন। তিনি আরও জানান, কালাম একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ।
নুরুন্নাহার বলেন, তিনি ও তাঁর ছেলে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও তাঁর স্বামী ডাবলু এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। নুরুন্নাহারকে এমনভাবে পেশাদার হামলাকারীদের দিয়ে শরীরে আঘাত করা হয়েছে যে, সেগুলো গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপস্থাপন করাও লজ্জাকর।
অপরদিকে কালামসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নুরুন্নাহার তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর স্বামী ভর্তি থাকা অবস্থায় কালামের ভায়রা নুরুজ্জামান মুঠোফোনে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
যেকোনো সময় তাঁদের ওপর আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন তিনি। হুমকির বিষয়টি নিয়ে তিনি পুনরায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছেন।
ভূমিদস্যু কালামের হামলার ঘটনা সম্পর্কে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, “আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিষয়টি দেখব।”