মুকুল হোসেন
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কোনো অনুমোদিত উপজেলা কমিটি না থাকলেও একটি ইউনিয়নে নিজেকে সভাপতি দাবি করে দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, কাজিপুর উপজেলা শ্রমিকদলের একটি খসড়া কমিটি প্রস্তুত করা হলেও তা এখনো সিরাজগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের অনুমোদন পায়নি। ফলে উপজেলা পর্যায়ে বৈধ কমিটি না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো কমিটি গঠনের আইনগত বা সাংগঠনিক সুযোগ নেই।
তবুও ২ নং চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তি নিজেকে “চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি” পরিচয়ে ইউনিয়নজুড়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ইউনিয়নের সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
উপজেলা কমিটিই যেখানে অনুমোদিত নয়, সেখানে ইউনিয়ন কমিটি কিভাবে হলো? আর কামরুল হাসানকেই বা কে সভাপতি পদ দিলেন?
এ বিষয়ে কথিত সভাপতি
শিমুদাইড় গ্রামের মৃত মোকবুল হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,হ্যা আমি শ্রমিক দলের সভাপতি
> “একটা খেলার মাঠ থেকে ওরা আমার নামের পাশে সভাপতি লিখে দিয়েছে। আমি ২ নং চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি।”
এদিকে চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমানের কাছে শ্রমিক দলের কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা স্পষ্টভাবে জানান,
> “না, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নে এখনো কোনো শ্রমিক দলের কমিটি হয়নি।”
শ্রমিকদল ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক রানা বলেন,
> “যেখানে কাজিপুর উপজেলা শ্রমিক দলের কমিটিই হয়নি, সেখানে ইউনিয়ন কমিটির প্রশ্নই আসে না।”
কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এ বিষয়ে বলেন,
> “কমিটি হয়নি। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবো।”
এ ঘটনায় চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের সচেতন মহল দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা বিএনপির সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি তারা কথিত পদ ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।