ঘুষ নিয়ে কাজ না করায় জনরোষ, রাজউক কর্মচারীর কান ধরে দাঁড়ানোর ছবি ফাঁস

Date: 2025-12-22
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যায়, ৪০ বছরের বেশি বয়সী এক ব্যক্তি অপরাধীর ভঙ্গিতে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছবিতে থাকা ব্যক্তির নাম সুকুমার চন্দ্র। তিনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আইন শাখায় কর্মরত।

ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সরকারি দপ্তরে কর্মরত একজন ব্যক্তির এমন অপমানজনক ছবি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো এবং এর পেছনের কারণ কী—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২০২৩ সালের কোনো এক সময়ে তোলা। রাজউকের অন্দরমহলের একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতার জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের আইন শাখায় কর্মরত সুকুমার চন্দ্র রাজধানীর কাকরাইল এলাকার এক সেবাপ্রার্থীর কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ওই কাজটি করে দিতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেওয়া বা কাজ সম্পন্ন—কোনোটিই না করায় সেবাপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ ওই সেবাপ্রার্থী বা তার লোকজন সুকুমার চন্দ্রকে চেপে ধরেন। কাজ করতে না পারা এবং টাকা নিয়ে টালবাহানা করার অভিযোগে শাস্তিস্বরূপ তাকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। সেই মুহূর্তের ছবিই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।


রাজউকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে ঘুষের টাকা হজম করতে না পেরে একজন কর্মচারীকে প্রকাশ্যে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করার দৃশ্য নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, এই ছবি রাজউকের ভেতরে চলমান দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্রকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে সুকুমার রায়বলেন, আমাকে  কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে। বিষয়টি আমার চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই জানেন।”

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজউকের আইন শাখার পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর করিম মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বার্তা বিচিত্রাকে জানান, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মীমাংসাযোগ্য নয়।

২০২৩ সালের ঘটনা হলেও ২০২৫ সালে এসে ছবিটি ভাইরাল হওয়ায় রাজউকের দুর্নীতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সচেতন মহলের অভিমত, কেবল ভাইরাল ছবি দেখে হাস্যরস না করে, এর পেছনের মূল হোতাদের শনাক্ত করা এবং রাজউকের সেবাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

Leave Your Comments