‎৪ শিক্ষার্থীর জন্য ৬ শিক্ষক! তথ্য সংগ্রহে বাঁধা দেন প্রধান শিক্ষক।

Date: 2026-01-25
news-banner


নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
‎মিঠাপুকুর উপজেলা আবিরের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী আছে মাত্র চার জন। আর এই চার শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োজিত রয়েছেন ছয়জন শিক্ষক। চার শিক্ষার্থী আর ছয় শিক্ষক নিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম। এ ছাড়াও অনিয়মের শেষ নেই এই প্রতিষ্ঠানে।
‎১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় আবিরের পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত বছরও এই স্কুলটিতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ছয় জন। এ বছর এসে বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার জনে।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা। বিদ্যালয়ে উপস্থিত আছেন মাত্র চার শিক্ষক ও চার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে দুই জন, চতুর্থ শ্রেণিতে একজন ও পঞ্চম শ্রেণিতে একজন। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির দুজন শিক্ষার্থী নিয়ে এক রুমেই ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষিকা। অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর কেউ অন্য রুমে বসে আছেন। অন্য এক শিক্ষিকা রয়েছেন  মাতৃত্বকালীন ছুটিতে জানালেন প্রধান শিক্ষক। 
‎কাগজ-কলমে বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী বেশি দেখানো হলেও স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন গড়ে উপস্থিতি সংখ্যা অনেক কম থাকে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা সময় মেনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। যখন খুশি তখন বিদ্যালয় থেকে চলে যান।
‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলামের খিটখিটে মেজাজ আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে আচরণের কারণে প্রতিবছরই কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
‎নিউজ সংগ্রহ করার সময় খায়রুল ইসলাম সাংবাদিককে বাঁধা দিয়ে বলেন, স্কুলের কোন ছবি তুলতে পারবেন না, আর যদি ছবি তোলার চেষ্টা করেন, তাহলে খারাপ কিছু হয়ে যাবে। আমি লোকজন খবর দিয়েছি।
‎এছাড়া আরেক সাংবাদিকের নাম নিয়ে বলেন, আর কোন দিন এই স্কুলের মাঠে পা রাখতে পারবে না। 
‎এটিও শাহানা পারভিন বলেন, অনেক দিন থেকে এই স্কুলের অবস্থা ভালো না, আমি সহ বাচ্চা বাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। তবে এই স্কুলের শিক্ষকদের উদাসীনতা রয়েছে। এর আগেও 
‎তদন্ত হয়েছে সেই তদন্ত রিপোর্ট রেডি করেছি পাঠানোর জন্য। 
‎প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র বর্মন বলেন, ওই স্কুলের কিছু সমস্যা আছে, ইতি মধ্যে তাদের  ছাত্র-ছাত্রী বৃদ্ধি করানোর জন্য দু'বার কারণ দর্শানো হয়েছে। আমরা এই স্কুল পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। 

Leave Your Comments