সৌদির সঙ্গে মিল রেখে জেলায় জেলায় ঈদ উদযাপন

Date: 2026-03-20
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন মুসল্লিদের একটি অংশ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, ভিন্ন চাঁদ গণনা পদ্ধতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের এক দিন আগে ঈদ পালন করে আসছেন।  

চাঁদপুরে ঈদের আমেজ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ প্রায় ৪০ গ্রামে সকাল থেকেই ঈদের আমেজ বিরাজ করে। সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই প্রথার ধারাবাহিকতায় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৮ সাল থেকে এ ধারার প্রচলন রয়েছে।  

শরীয়তপুরে বৃহৎ জামাত
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফকেন্দ্রিক অন্তত ৫০টি গ্রামে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি ঈদ উদযাপন করেছেন। প্রায় দেড় শতাব্দীর পুরোনো এই ধারার অনুসারীরা প্রতি বছরই মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন।  

অন্যান্য জেলার চিত্র
- পিরোজপুর ও বরিশাল: তিন উপজেলার ১০টি গ্রামে ৮ শতাধিক পরিবার এবং বরিশাল অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি পরিবার আগাম ঈদ পালন করেছে।  
- দিনাজপুর: সদরসহ আটটি উপজেলায় কয়েকশ’ পরিবার মসজিদ, মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টারে জামাত আদায় করেছেন।  
- সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ: বিভিন্ন গ্রামে মুসল্লিদের একটি অংশ আগাম ঈদ পালন করেছেন।  
- ঝিনাইদহ ও লালমনিরহাট: হরিণাকুণ্ডু ও কালীগঞ্জ উপজেলার কিছু গ্রামে শতাধিক পরিবার ঈদের জামাতে অংশ নেয়। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে।  

ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও ঐতিহ্য
আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা বৈশ্বিকভাবে চাঁদ দেখার ধারণাকে অনুসরণ করেন। তাদের মতে, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করা যায়। অনেক এলাকায় এই প্রথা কয়েক দশক থেকে শুরু করে একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে।  

দেশের প্রস্তুতি
যদিও কয়েকটি স্থানে মুসল্লিরা আজ ঈদ উদযাপন করেছেন, দেশের অধিকাংশ এলাকায় শনিবার (২১ মার্চ) চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদুল ফিতর পালনের প্রস্তুতি চলছে। আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা সাধারণত পরদিনও স্থানীয়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ফলে অনেক এলাকায় দুই দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।  

Leave Your Comments