সবুর খান:
গৌরবময় তিন দশক অতিক্রম করলো রাঙ্গালিয়াগাঁতী উচ্চ বিদ্যালয়। এই উপলক্ষে আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান, যা পরিণত হয় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফিরে যান তাদের শৈশব-কৈশোরের সেই সোনালি দিনে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক—সবকিছু যেন আবারও জীবন্ত হয়ে ওঠে স্মৃতির পাতায়। অনেকেই জানান, এই বিদ্যাপীঠ শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এখান থেকেই তারা শিখেছেন নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রথম পাঠ।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে রাঙ্গালিয়াগাঁতী উচ্চ বিদ্যালয় এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার ও আলোকিত মানুষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ৩০ বছরে এ বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসা অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। যা এলাকার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি শুধু আনন্দের নয়, বরং এটি ছিল প্রজন্মের সংযোগের এক সেতুবন্ধন। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয় এই আয়োজনের মাধ্যমে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি মানুষের মনন, মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনের অন্যতম কেন্দ্র। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষালাভ করা শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
পুনর্মিলনী আয়োজন সফল করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন—আয়োজক কমিটি, শিক্ষকবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও আহ্বান জানানো হয়।
সবশেষে, রাঙ্গালিয়াগাঁতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে সফল ও স্মরণীয় করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল ও সাফল্য কামনা করা হয়।