ইরানের হামলায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এর দুই ক্রুর মধ্যে একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ইরানে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাতে এই অভিযান চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ইরান তাদের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর এটি প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা। এরপর থেকেই বিধ্বস্ত বিমানের দুই ক্রুকে উদ্ধারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পরপরই মার্কিন বাহিনী দুটি সামরিক হেলিকপ্টার ও একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। ওই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, অপরজন নিখোঁজ থাকেন।
উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর ওপর হালকা অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এতে উভয় হেলিকপ্টারই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টার ইরাকের আকাশসীমায় ফিরে যাওয়ার সময় ধোঁয়া ছড়াতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় মিলিশিয়ারা নিখোঁজ মার্কিন বিমানসেনাকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছে। এমনকি তাকে ধরিয়ে দিতে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণার খবরও প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ মার্কিন বিমানসেনার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না, কারণ আমরা আশা করছি এমনটা ঘটবে না।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিখোঁজ ক্রুকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।