নিজস্ব প্রতিনিধি :
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে হিজড়া সেজে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ারের বাচনভঙ্গি হিজড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় তিনি সহজেই নিজেকে ওই সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। শুরুতে কুমিল্লা, লাকসাম ও নাথেরপেটুয়া এলাকায় হিজড়া সেজে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন তিনি।
পরবর্তীতে তার পরিচয় হয় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার রানী ময়নার সঙ্গে। ‘সুমি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে দেলোয়ার সেখানে চলে যান এবং গত প্রায় ৭ বছর ধরে হিজড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন।
ঘটনার মোড় নেয় গত বুধবার, যখন দেলোয়ারের স্ত্রী নাছিমা বেগম দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শাহরাস্তিতে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, “যাকে আপনারা ‘সুমি হিজড়া’ হিসেবে চেনেন, তিনি আসলে আমার স্বামী দেলোয়ার হোসেন। তিনি আমাদের কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। তিন সন্তান নিয়ে আমি খুব কষ্টে আছি।”
জানা গেছে, শাহরাস্তির শ্রীপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় কয়েকজন হিজড়া একসঙ্গে বসবাস করতেন। সেখানে স্ত্রী নাছিমা বেগমের উপস্থিতি টের পেয়ে দেলোয়ার হোসেন সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার রানী ময়না জানান, দেলোয়ারকে তিনি ‘সুমি’ নামেই চিনতেন এবং তিনি যে আসলে পুরুষ, তা আগে জানা ছিল না। প্রায় সাত বছর আগে তার সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি তাকে শাহরাস্তিতে নিয়ে আসেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন দেলোয়ার। তারা দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, দেলোয়ারের সন্ধানে সংশ্লিষ্টরা খোঁজখবর চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।