ই-সিগারেট নিষিদ্ধে দৃঢ় অবস্থান চায় তামাক বিরোধী জোট

Date: 2026-04-04
news-banner

মোঃ আতিকুর রহমান, ক্রাইম রিপোর্টার:-

বাংলাদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। সংগঠনটি বলছে, ই-সিগারেট বৈধতা পেলে তা তরুণদের মধ্যে নতুন করে নেশার বিস্তার ঘটাবে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে।

সম্প্রতি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ই-সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

তামাকবিরোধী জোটের মতে, বর্তমানে দেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার খুবই সীমিত। তবে ‘কম ক্ষতিকর’ বা ‘ধূমপান ত্যাগে সহায়ক’ হিসেবে প্রচার চালিয়ে একটি নতুন বাজার তৈরির চেষ্টা করছে কিছু তামাক কোম্পানি ও ব্যবসায়ী। অথচ সরকার ইতোমধ্যে ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হিসেবে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এনআরটি) ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সংগঠনটির দাবি, ই-সিগারেট কোনোভাবেই নিরাপদ বা কম ক্ষতিকর নয়। 

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট ব্যবহারে ফুসফুসের ক্ষতি ছাড়াও হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই এটিকে সিগারেটের বিকল্প বা ধূমপান ছাড়ার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও সিগারেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি সফলতা আসেনি। এ অবস্থায় ই-সিগারেট বৈধতা পেলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের এক রায়ে দেশে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার পাশাপাশি নতুন তামাকজাত পণ্যের অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। 

তামাকবিরোধী জোটের মতে, ই-সিগারেট বৈধতা দেওয়া হলে তা ওই রায়ের পরিপন্থি হবে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও তামাক নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেট বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগকে প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ই-সিগারেটসহ সব ধরনের ক্ষতিকর নেশাজাত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তামাকবিরোধী জোটের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা এবং ই-সিগারেট নিষিদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave Your Comments