মোঃ আতিকুর রহমান, ক্রাইম রিপোর্টার
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৯২ জন।
হঠাৎ করে সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতিতে জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু ও কিশোর। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেসব অঞ্চলে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। এতে করে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়ছে চাপ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং প্রাথমিক লক্ষণ অবহেলা করায় রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
হামের সাধারণ উপসর্গ হিসেবে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা দেখা দিয়ে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত পূরণ করা জরুরি। অভিভাবকদেরও সচেতন হয়ে শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে। হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,সময়মতো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাই টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রধান উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।