ঝিনাইকুড়ি খাল পুনঃখননে পানির প্রবাহ ফিরবে: প্রতিমন্ত্রী

Date: 2026-03-24
news-banner

মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু ,পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশের পানি সংকট, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধারে সরকার সারা দেশে নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, আমার নিজ জেলা পঞ্চগড়ে ঝিনাইকুড়ি খাল, যা একসময় ছোট নদী হিসেবে প্রবাহমান ছিল, সময়ের ব্যবধানে ভরাট হয়ে গেছে। এখন আর সেই খালের বা নদীর চিত্র নেই। এই খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে আমরা আবার পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে চাই।

মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার প্রামানিক পাড়ায় দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন-পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ঝিনাইকুড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন হলে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমবে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই খালটি বোদা পৌরসভার বুক চিরে বয়ে গেছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মৎস্য চাষ, হাঁস পালন এবং বৃক্ষরোপণের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে ২০ ফুট খুঁড়লেই টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যেত, এখন ৬০ ফুটেও পাওয়া যায় না। এর কারণ শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও প্রবাহের অভাব। খাল খননের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকটাই সমাধান সম্ভব।

তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন করা হবে। এতে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাদ্য রপ্তানিতেও সক্ষম হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু খাল খননই করছি না, মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি করছি। ড্রেজার মেশিনের পরিবর্তে শ্রমিক দিয়ে কোদাল ও টুকরি ব্যবহার করে খনন কাজ করা হলে স্থানীয় হাজারো মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির চাকা তৃণমূল পর্যায়ে ঘুরবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে খাল ও জলাশয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। এসব খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করে খালগুলো পুনরায় জনগণের কাজে লাগানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হলে দেশের পানি সংকট দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

Leave Your Comments