আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান ইস্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখা যাচ্ছে এক জটিল ও দ্বিমুখী অবস্থানে। একদিকে তিনি সামরিক হুমকি আপাতত স্থগিত রেখেছেন, অন্যদিকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সংঘাত থেকে সহজে বেরিয়ে আসাও তার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরান ইস্যুতে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অগ্রগতির দাবি করলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং তারা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা’ এবং একই সঙ্গে ‘সামরিক প্রস্তুতি’—এই দ্বিমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এর ফলে তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কূটনৈতিকভাবে একদিকে আলোচনার বার্তা দেওয়া হলেও, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থনৈতিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলমান উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে, যা প্রশাসনের কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীও বড় ধরনের কোনো অভিযানে যাওয়ার আগে সময় নিচ্ছে এবং প্রস্তুতি জোরদার করছে। অন্যদিকে, ইরানও তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এমন এক সংকটময় অবস্থায় পড়েছেন, যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ করে পিছু হটা বা সমঝোতায় পৌঁছানোও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।