পরিবারের দুই সদস্যের লাশের অপেক্ষায় কাঁদছেন যুবক

Date: 2026-03-25
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর পাড়ে ৭ বছর বয়সী ছেলে সাবিত ও ১১ বছরের ভাগ্নি সোহানা আক্তারের লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন শরীফ নামে এক যুবক। নিখোঁজ স্বজনদের জন্য ঘাট এলাকায় আহাজারি করছেন তিনি।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৮টা) এ ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। বাসটিতে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শরীফ বলেন, রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বোন ও বোনের ছেলে ওই বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে গেলে আমার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন স্থানীয়দের সহযোগিতায় তীরে উঠতে পারলেও আমার ৭ বছরের ছেলে ও ১১ বছর বয়সী ভাগ্নি এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে ও ভাগ্নি তো আর নেই, এখন তাদের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিন। আমার টাকার দরকার নেই, আমার সন্তানের লাশটাই আমাকে দিন। আমার আর কিছু লাগবে না, আমার সব শেষ।”

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ইউনিটের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ কাজ করছে, তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পানির নিচে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন স্বজনরা। তারা প্রিয়জনদের মরদেহ পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন।

Leave Your Comments