নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসটির শুরুতে অবস্থান ছিল প্রায় ৩০ ফুট গভীরে, তবে পরে তা নেমে গিয়ে প্রায় ৮০ ফুট নিচে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসটি উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ডুবুরি দল বাসটি থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকাজে গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ও আরিচা ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট কাজ করছে। এছাড়া ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩৩ জন যাত্রীর মরদেহ এখনও পানির নিচে রয়েছে।
এদিকে, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ জানিয়েছেন, উদ্ধার করা দুই নারীর মরদেহ গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
এর আগে, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। একটি ফেরি এসে পন্টুনে সজোরে আঘাত করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বাকিদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।