নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জে একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নিহতের পক্ষের লোকজন সদর উপজেলার বগাদিয়া গ্রামে এ তাণ্ডব চালায়।
জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ সকালে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন মারিয়া ইউনিয়নের বগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সুমন (৪১)। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুলাল মিয়া নামে আরও একজন আহত হন।
এলাকাবাসী অভিযুক্ত রুবেল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জুম্মন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামি পক্ষের দাবি, ঘটনার পর ১৮ মার্চ নিহতের আত্মীয়-স্বজন বসতঘরে হামলা চালায়। তারা ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ খামার থেকে চারটি গরু নিয়ে যায়। এমনকি ঘরের দরজা-জানালা ও ইট খুলে নেওয়া হয়। লুটপাটের পর কেরোসিন ঢেলে ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা মো. সুমনের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকা নিরীহ মানুষও এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে গরু-বাছুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার বলেন, রশিদের নেতৃত্বে ইফতারের সময় হঠাৎ করে আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে কেরোসিন ঢেলে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা এক কাপড়ে প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র পালিয়ে যাই। আমরা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই।
আরেক ভুক্তভোগী খুশ নাহার বলেন, আমার নিরপরাধ বাবা শ্বশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে গরুর খামারসহ ঘর তুলেছেন। সেখানে হামলা চালিয়ে চারটি গরু নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ঘরের সব আসবাবপত্র লুটপাট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের বড় ভাই জুম্মন বলেন, ছোট ভাইয়ের লাশ বাড়িতে আনার পর উত্তেজিত জনতা আসামির বাড়িতে হামলা চালায়। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কেউ জড়িত নয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘হত্যায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনার পর লুট হওয়া দুটি গরু উদ্ধার করে মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, আসামিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।