আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.১৩ ডলার বা ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৩.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.০৮ ডলার বা ১.২ শতাংশ বেড়ে ৯১.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের দিন উভয় সূচকই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। (সূত্র: সামা টিভি)
বিশ্লেষকেরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু হওয়ায় বাজারে দামের পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। তবে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত থাকায় তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হলেও সংঘাত বন্ধে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই তেহরানের। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস সতর্ক করেছে, ইরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।
জাপানভিত্তিক এনএলআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সুয়োশি উএনো বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদ কমে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্ত আলোচনার পথকে আরও জটিল করছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বে মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় সরবরাহ বিঘ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরাকে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংরক্ষণাগারগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা, পাইপলাইন ক্ষতি এবং ট্যাঙ্কার জব্দের কারণে রাশিয়ার তেল রপ্তানির বড় অংশ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর ভারত বহু বছর পর প্রথমবারের মতো ইরান থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানি করেছে। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলার জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
তবে সরবরাহ সংকটের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির মজুদ ৬.৯ মিলিয়ন ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৬.২ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি এবং ২০২৪ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।