বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে বিমান জ্বালানি ও ডিজেল রপ্তানিতে উইন্ডফল কর আরোপ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, পেট্রোলের বিশেষ শুল্ক প্রতি লিটারে ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপি এবং ডিজেলের শুল্ক ১০ রুপি থেকে শূন্যে নামানো হয়েছে। এতে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর (ওএমসি) আর্থিক ক্ষতি কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই শুল্ক কমানোর সুফল সাধারণ মানুষ সরাসরি কতটা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সিদ্ধান্তে মূলত বিপণন সংস্থাগুলোর লোকসান কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকের সরাসরি লাভ সীমিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর শুল্ক বাড়ানোর ফলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম তেমন বাড়ানো হয়নি। এতে তেল বিপণন সংস্থাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই চাপ সামাল দিতেই সরকার শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে দুটি পথ ছিল—জ্বালানির দাম বাড়ানো অথবা আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে জনগণকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। সরকার দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে।”
এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে ইরান-সংকটের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।
ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মজুত থাকা অপরিশোধিত তেল দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে অন্তত এক মাসের চাহিদা মেটানো যাবে।