পুলক রায়,শেরপুরঃ
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কয়রাকুড়ি গ্রামে পৈত্রিক জমি উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা, হামলা-ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। একইসাথে এক গৃহবধূর সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও উঠেছে, যা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভুক্তভোগী লাকি আক্তার (২৭) ও তার পরিবার জানান, তার পিতা মজিবর রহমানের নামে বুরুঙ্গা এলাকায় প্রায় ৪ একর ৩৭ শতাংশ জমি রয়েছে, যা অন্যের দখলে আছে বলে একই গ্রামের আরিফ হোসেন (৩৫) তথ্য দেন। পরবর্তীতে জমি উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কথা বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন আরিফ।
দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও জমি উদ্ধার করতে না পারায় এবং কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে দাবি করেন লাকির পরিবার। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে লাকি আক্তারের সাথে আরিফের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্বামীর অনুপস্থিতিতে লাকির সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন আরিফ। পরে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে গত বছরের ২১ আগস্ট রাতে লাকি আক্তার আরিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন।
অন্যদিকে, আরিফের স্ত্রী উম্মে হানী লাকির বিরুদ্ধে চেতনানাশক খাইয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ এনে মামলা করেন। থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষের অভিযোগকে সন্দেহজনক মনে করে তাৎক্ষণিক মামলা গ্রহণ করেনি।
পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর লাকি আক্তার আদালতে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন এবং আরিফের স্ত্রীও আদালতে চুরির মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হলেও বিলম্বে মামলা দায়ের ও ডাক্তারি পরীক্ষায় আলামত না পাওয়ায় ধর্ষণ মামলাটি অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির অভিযোগের নির্ধারিত সময়ে একই এলাকায় আরও কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলে শোনা গেলেও সেগুলো নিয়ে কোনো মামলা বা বিচার হয়নি।
এদিকে, পাল্টাপাল্টি মামলার জেরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। লাকি আক্তার অভিযোগ করেন, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেন। তবে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান।
নালিতাবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হামলা-ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সালিশ হয়নি, তবে দুই পক্ষের বিরোধ এখনো চলমান রয়েছে।