নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মুরাদপুর এলাকায় অবস্থিত মুরাদপুর মাদ্রাসা জামে মসজিদ (স্থাপিত: ১৯৫৩) ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে কোনো নির্বাচন ছাড়াই একই ব্যক্তি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আহমদ আলী ও সেক্রেটারি মো. বাহাদুর দীর্ঘদিন ধরে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস না করে গুলশানে অবস্থান করায় মসজিদের কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ নেই।
মুসল্লি ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময়েও মসজিদে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিও নিয়মিত নয়। এ ছাড়া নামাজের কাতারে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে একাধিকবার বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী শের আলীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক নামাজের স্থান দখলের অভিযোগ রয়েছে। জুমার নামাজের সময় এ নিয়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে শের আলীর বিরুদ্ধে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই মুরাদপুর এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ নগর উন্নয়ন আইনের পরিপন্থী এবং এর জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
মসজিদের ইমাম মহিবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না এবং একাধিক স্থানে দায়িত্ব পালন করে অতিরিক্ত আয় করছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়মিত কমিটি গঠন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬ ও ৪০৯ ধারায় দায়িত্বে থেকে সম্পদের অপব্যবহার বা বিশ্বাসভঙ্গ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আহমদ আলী ও সেক্রেটারি মো. বাহাদুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে ইমাম মহিবুল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।