জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ঋণ খুঁজছে সরকার

Date: 2026-03-28
news-banner

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকস (জেডসিএ)।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ কোটি মানুষের দেশে জ্বালানির সিংহভাগই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে ক্রুড ও রিফাইন্ড ফুয়েল আমদানিতে বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়। তবে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ব্যয় আরও প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

জেডসিএ জানায়, মার্চ মাসে বাংলাদেশ ২ লাখ ৯৩ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করলেও এর মধ্যে ৬০ হাজার টনের অর্ডার ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি মাসে জ্বালানি তেলবাহী ১৮টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে মাত্র ৯টি।

সংকট মোকাবেলায় সরকারকে নতুন ঋণের আশ্বাস দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

  • আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ): ১৩০ কোটি ডলার ছাড় নিয়ে আলোচনা
  • এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি): ৫০ কোটি ডলার (বাড়িয়ে ৭৫–১০০ কোটি ডলার হতে পারে)
  • ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি): ২১০ কোটি ডলার ঋণের প্রস্তাব
  • আইএফসি: সম্ভাব্য ৫০ কোটি ডলার সহায়তা

এই অর্থ জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আস্থা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়বে, যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়ক হবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, ঋণের পরিমাণ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে চাপ পড়তে পারে। আমদানি সক্ষমতার সময়কাল (ইমপোর্ট কভার) ৫ মাসের নিচে নেমে আসার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, “এই চাপ সরকারকেই বহন করতে হবে, ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার দিকেই নজর দিতে হবে।”

Leave Your Comments