ইসরায়েলের রাডার কেন্দ্র ও বিমানবন্দরে ইরানের হামলা

Date: 2026-03-29
news-banner

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও অস্থিরতা বেড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্য এবং চিকিৎসা সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। খবর আল জাজিরা ও ইরানের প্রেস টিভি অনুসারে, শনিবার (২৮ মার্চ) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), ইরানি সেনাবাহিনী এবং তেহরানের মিত্ররা একাধিক স্থানে সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

আইআরজিসি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এবং জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এ সময় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে এবং একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনী হাইফা বন্দরের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলটার পরিচালিত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার কেন্দ্র এবং ডেভিড বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।

বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, আবুধাবি ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। ওমানে সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন আহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ সারও এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে জিসিসি দেশগুলো খাদ্য সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এছাড়া কাতার থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ হিলিয়াম আসে, যা এমআরআই মেশিন ও ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে সংকট আরও গভীর হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন, খাদ্য ও চিকিৎসা সুরক্ষায় হুমকি সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তীব্র হচ্ছে, যাতে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং বৈশ্বিক মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হয়।

Leave Your Comments