মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতি দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, এই নীতি কার্যকর হলে বহু অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। খবর সিএনএনের।
২৬ বছর আগে কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ‘পিলার’ (ছদ্মনাম) বর্তমানে একজন প্যারালিগ্যাল হিসেবে কাজ করছেন। ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িও কিনেছেন তিনি। তবে নতুন আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাকে ‘অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এর ফলে তার সন্তানেরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেও নাগরিকত্ব পাবে না—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর একটি ধারা, যেখানে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং এর অধিক্ষেত্রের আওতাভুক্ত সকল ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক।” ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন, ‘অধিক্ষেত্রের আওতাভুক্ত’ হওয়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি আনুগত্য থাকা, যা অবৈধ বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ব্যাখ্যা সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নীতি কার্যকর হলে প্রায় ৬৫ লাখ বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীর সন্তানের নাগরিকত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অনেক অভিবাসী বছর বছর ধরে আশ্রয় আবেদন বা মানবিক কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
ইউক্রেন থেকে আগত ‘লিলি’ (ছদ্মনাম) জানিয়েছেন, নিজ দেশে ফিরে যাওয়া তার জন্য ‘মৃত্যুদণ্ডের সমান’। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখানেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই নীতি শুধু আইনি প্রশ্ন নয়, বরং “নিরাপত্তা, পরিচয় এবং ভবিষ্যতের অধিকার”-এর সঙ্গে জড়িত।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি চলমান রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত লাখো অভিবাসী পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুমোদন পেলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে, যার প্রভাব পড়বে বহু প্রজন্মের ওপর।