২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশের স্বর্ণের বাজারে চলছে তীব্র অস্থিরতা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও স্থানীয় চাহিদার প্রভাবে মাত্র তিন মাসে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে রেকর্ড ৫০ বার। এর মধ্যে ২৯ বার দাম বেড়েছে এবং ২১ বার কমেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সব মিলিয়ে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২০ হাজার ৫২৯ টাকা।
বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। তবে মাসের মধ্যভাগ থেকেই শুরু হয় টানা মূল্যবৃদ্ধি।
-
১০ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক দফায় দাম বাড়ে
-
২৩ জানুয়ারি ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ
-
২৯ জানুয়ারি নতুন রেকর্ড ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা
তবে মাসের শেষদিকে বড় পতনও দেখা যায়।
৩০ ও ৩১ জানুয়ারি দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।
ফেব্রুয়ারি মাসে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয় ১৫ বার—
মাসজুড়ে দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকলেও শেষ দিকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা।
মার্চ মাসে মোট ১৬ বার দামের সমন্বয় করা হয়।
-
মাসের শুরুতে দাম বেড়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা
-
মাঝামাঝি সময়ে বড় পতন
-
১২ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত একাধিক দফায় ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমে দাম নেমে আসে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়
তবে মাসের শেষদিকে আবার দাম বাড়তে শুরু করে।
সবশেষ সমন্বয় অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়।
-
২২ ক্যারেট: ২,৪৪,৭১১ টাকা
-
২১ ক্যারেট: ২,৫৬,৪৩৩ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: ২,১৯,৮০৮ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ১,৭৯,৮৫৯ টাকা
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা, ডলার দর ও স্থানীয় চাহিদার প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা—উভয়ই এখন অপেক্ষায় রয়েছেন স্থিতিশীলতার।