মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ভারতে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL) দিল্লিতে প্রিমিয়াম পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম ঘোষণা করেছে।
এতে এক্সপি১০০ পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৪৯ রুপি। অন্যদিকে এক্সট্রা গ্রিন প্রিমিয়াম ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৯২.৯৯ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের ৯১.৪৯ রুপির তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্সপি১০০ হচ্ছে ১০০-অকটেন মানের পেট্রোল, যা উচ্চমানের গাড়ি ও সুপারবাইকের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং উন্নত ইঞ্জিন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।
IOCL কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ না দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এই সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। এর আগে ২৭ মার্চ সরকার সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক লিটারপ্রতি ১০ রুপি কমিয়ে স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছিল।
জেট ফুয়েলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে
দিল্লিতে বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) দাম প্রথমে কিলোলিটারপ্রতি ২ লাখ ৭ হাজার ৩৪১.২২ রুপি নির্ধারণ করা হয়, যা আগে ছিল ৯৬ হাজার ৬৩৮.১৪ রুপি। এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২ লাখ রুপির সীমা অতিক্রম করে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সংশোধিত মূল্য নির্ধারণ করে তা কমিয়ে কিলোলিটারপ্রতি ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ রুপি করা হয়।
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম ১০০ শতাংশের বেশি বাড়ার আশঙ্কা ছিল, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে, যাতে বিমান খাতে আকস্মিক ধাক্কা এড়ানো যায়। তবে সংশোধনের পরও এই জ্বালানির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাবে দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১.১ লাখ রুপিতে পৌঁছেছিল।
বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও ঊর্ধ্বমুখী
দেশে বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দিল্লিতে ১৯ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৭৮.৫০ রুপি, যা ১ মার্চ ১৭৬৮.৫০ রুপির তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির পর এটি পঞ্চমবারের মতো দাম বাড়ানো হলো।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ বিঘ্নের কারণে ভারতের ভোক্তা ও শিল্প খাতে জ্বালানির ব্যয় ক্রমেই বাড়বে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা উভয়েই দাম বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।