মোঃ আতিকুর রহমান, ক্রাইম রিপোর্টার:
দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সব জেলায় একযোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে তরুণদের জন্য বৈদেশিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তরুণ-তরুণীরা ঘরে বসেই বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কাজ করার সুযোগ পাবে, যা বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সার্বিক দিক তুলে ধরে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হবে।
এছাড়া ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম প্রশিক্ষণের কাঠামো, পাঠ্যক্রম এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে পারবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। এ সময় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা দুইজন অংশগ্রহণকারী তাদের সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তারা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
অন্যদিকে নতুন ব্যাচে ভর্তি হওয়া দুই প্রশিক্ষণার্থী তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হতে চান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের বৈশ্বিক কর্মবাজারে যুক্ত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।