মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির স্বর্ণবাজার, টানা চার দফা বাড়ল দাম

Date: 2026-04-02
news-banner

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ে দেশের স্বর্ণবাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় দেশেও টানা চার দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে নতুন নির্ধারিত উচ্চমূল্যে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এ দফায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) এর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সেদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়।

নতুন দরে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের স্বর্ণের বাজারে মোট ৫১ বার দামের সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২১ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ৯৩ বার—যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

রুপার ক্ষেত্রেও চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩০ বার দামের সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৩ বার কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার—যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং মাত্র ৩ বার কমানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দেশের স্বর্ণবাজারেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও কিছুদিন চলতে পারে।

Leave Your Comments