দেশের প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের মার্চ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা স্বাধীনতার পর একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে, তখন পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পুরোনো সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশেষ করে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রবাসীরা বেশি পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান, যা এই রেকর্ড গড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে। পুরো মাসে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স বাড়া একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এখনো কর্মসংস্থান স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রবাসীদের আয়ও মোটামুটি স্থির আছে। ফলে তারা নিয়মিত অর্থ দেশে পাঠাতে পারছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সামনের মাসগুলোতে এই প্রবাহ কিছুটা কমে যেতে পারে।
এদিকে, অবৈধ চ্যানেল হুন্ডির ব্যবহার কমে আসায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসা স্বাভাবিক পর্যায়ে পরিণত হলেও, এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ব্যাংকভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, মার্চ মাসে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে প্রায় ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সময় ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই উত্থান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। তবে নতুন কর্মী বিদেশে পাঠানোর সুযোগ সীমিত থাকায় ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।