পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত রয়েছে দেশটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া বক্তব্যে আরব কর্মকর্তারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে আমিরাত। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক শক্তিগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, ইরান নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান—এমন তথ্যও উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমিরাত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিলে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ইরানবিরোধী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া প্রথম দেশ হবে তারা।
আমিরাত ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ, নৌ টহল জোরদার এবং মিত্র বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আবু মুসা দ্বীপসহ কয়েকটি দ্বীপ দখলের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিয়েছে আমিরাত। যদিও দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে আমিরাত এটি নিজেদের দাবি করে আসছে।
অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো উপসাগরীয় দেশ যদি ইরানের ভূখণ্ড দখলের অভিযানে সহায়তা করে, তাহলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। বিশেষ করে আমিরাতকে ইঙ্গিত করেই এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।